যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান থেকে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে আমেরিকানসহ সব বিদেশি সেনা। আর বিদেশি সেনা প্রত্যাহার কার্যক্রম শুরু হতে না হতেই একের পর এক প্রদেশ দখল করে নিচ্ছে সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী তালেবান।

গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে মোট ৩৪টি প্রদেশের ১০টিই দখল করে নিয়েছে তালেবানরা। সব বিদেশি সেনা চলে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র কাবুল বিমানবন্দর রক্ষার দায়িত্ব তুরস্ককে দিতে ইচ্ছা প্রকাশ করে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানও এই প্রস্তাবে সাড়া দেন।

কিন্তু আফগানিস্তানের পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতি হচ্ছে। এই অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে তুরস্ক এখনও কাবুল বিমান বন্দর রক্ষার দায়িত্ব নিতে চায় কী না এমন প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে বুধবার তুরস্কের সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা এখনও কাবুল বিমানবন্দর পাহারা দেয়ার সিদ্ধান্তে অটল। তবে তালেবান যেহেতু দ্রুত গতিতে অগ্রসর হচ্ছে, এ কারণে তারা আফগানিস্তানের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

এদিকে কাবুল বিমানবন্দর পাহারা দেয়ার বিষয়ে তুরস্ককে তালেবান হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তবে তুরস্ক তালেবানের হুমকিতে কর্ণপাত না করে বিমানবন্দর পাহারা দেয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে। আফগানিস্তানে কর্মরত পশ্চিমা কূটনীতিক ও কর্মীদেরকে নিরাপদে দেশটি থেকে বের করে নেয়ার প্রধান রুট হচ্ছে কাবুল বিমানবন্দর।

ন্যাটো ও মার্কিন সেনাদের প্রত্যাহার করে নেয়া হলে তালেবানের হাতে বিমানবন্দরটির পতন হতে পারে ভেবে ওয়াশিংটন শঙ্কিত। এ কারণে এটির নিরাপত্তা রক্ষার ওপর বাইডেন প্রশাসন ব্যাপক জোর দিচ্ছে। তুর্কি সাংবাদিক ইলহান উজগেলের মতে, আঙ্কারা বর্তমানে কাবুল বিমানবন্দর মিশনকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক ফিরিয়ে আনার চাবিকাঠি হিসেবে বিবেচনা করছে।

তিনি বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কাবুলে উপস্থিতির মাধ্যমে এরদোগান সরকার এখন বাইডেন প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের প্রয়াস চালাচ্ছে। এজন্য তারা ওয়াশিংটনের জন্য ভালো কিছু করে দেখাতে চায়। আঙ্কারা প্রমাণ করতে চাইছে, তুরস্ক মিত্র হিসেবে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ একটি দেশ, যাকে চাইলেই উপেক্ষা করা যায় না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন তুরস্কের সামনে এখন দুটি সম্ভাব্য পথ রয়েছে। হয় তালেবানের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়া নতুবা আফগানিস্তানে শান্তি নিশ্চিতে প্লেমেকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া। তথ্যসূত্র : আলজাজিরা।

এবিএস