মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে পাঠানো এক ভিডিওবার্তায় বাংলাদেশের আন্দোলনের প্রশংসা করেন নেহা বোরা।
ভিডিওবার্তায় তিনি বলেন, ‘ভারতজুড়ে এখন যে জেন-জি আন্দোলন চলছে, তা মূলত শুরু হয়েছে বাংলাদেশকে দেখে। আমাদেরকে পথ দেখানোর জন্য ও ভারতের তরুণ সমাজের প্রতি সমর্থন জুগিয়ে যাওয়ার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। আমরা জানি, বাংলাদেশে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল তা ছিল, গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার লড়াই। বর্তমানে ভারতে যে বিক্ষোভ চলছে, তার উদ্দেশ্যেও এক’।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সংগ্রামের প্রশংসা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর ক্রমবর্ধমান হুমকি এবং সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনাকে স্তব্ধ করে দেওয়ার চেষ্টার সাথে ভারতের শিক্ষাঙ্গনে চলা উগ্রবাদী প্রভাবের গভীর মিল রয়েছে।
নেহা আরও বলেন, ‘আমরা আপনাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছি। আপনাদের কাছ থেকে আমরা অনুপ্রেরণা পেয়েছি ও আপনাদের করা আন্দোলন থেকে শিখতে পেরেছি। আশা করি, আপনারা ও আমরা মিলে একটি ভালো দক্ষিণ এশিয়া গড়তে পারবো’।
নেহার বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল তরুণদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সংহতি। তবে তার এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই ভারতে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিজেপির মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ নেহার বক্তব্যের ভিডিও শেয়ার করে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে আক্রমণ করেন।
পোস্টে তিনি বলেন, “রাহুল গান্ধীর পোস্টার গার্ল নেহা বোরা বলেছেন—বিপ্লবের জন্য ‘বাংলাদেশই আমাদের পথ দেখিয়েছে’ এটা শাসন পরিবর্তনের প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি! রাহুল গান্ধী ও তার সঙ্গীরা ভারতীয় গণতন্ত্রের জন্য হুমকি।”
অন্য একটি পোস্টে ভান্ডারি দাবি করেন, বোরার মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, সরকারের প্রতি রাহুল গান্ধীর বিরোধিতা কেবল রাজনৈতিক নয়; বরং বাংলাদেশে যে ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটেছে, ভারতে তেমন পরিবর্তন ঘটানোর চেষ্টা করা।
এদিকে বিজেপির অভিযোগের জবাবে কংগ্রেস নেতা রশিদ আলভি বলেন, ‘বিজেপি সেই গণতন্ত্রকেই ব্যবহার করছে, যা বাঁচানোর জন্য আমরা লড়ছি। গোটা দেশ এই লড়াই লড়ছে। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ কেন দাবি করা হচ্ছে? কারণ তিনি ভারতের গণতন্ত্রকে হত্যা করেছেন।’
কংগ্রেস নেতা আরও বলেন, “গণতন্ত্রের নাম ব্যবহার করে ভারতীয় জনতা পার্টি যুবকদের এই কণ্ঠস্বরকে দমন করতে পারে না... প্রতিবাদ শান্তিপূর্ণ হওয়া উচিত। আমরা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বিষয়টিকে সমর্থন করি না এবং কখনও করিনি। ভারতে যেকোনো সরকার পরিবর্তন গণতান্ত্রিক উপায়েই হবে।”
উল্লেখ্য, ২৯ বছর বয়সী নেহা বোরা ভারতের সাম্প্রতিক ছাত্র-যুব আন্দোলনের পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন। তিনি জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি শিক্ষার্থী এবং এআইএসএর সর্বভারতীয় সভাপতি। নাট্যচর্চার মধ্য দিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে তার আগ্রহ তৈরি হয়। পরে ২০১৯-২০২০ সালে নাগরিকত্ব আইনবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে তার রাজনৈতিক সক্রিয়তা আরও বিস্তৃত হয়।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, এনডিটিভি
এমএম
















