ভারতের হরিয়ানা ও মহারাষ্ট্র রাজ্যে ১৫ বছর পর সরকার গঠন করতে যাচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। এক্সিট পোল বা বুথ ফেরত ভোটারদের মতামত থেকে এ কথা জানা গেছে। এ দুটি রাজ্যে বুধবার বিধানসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আজ রবিবার ভোটগণনার ফলাফল ঘোষনা করা হবে।
মহারাষ্ট্রের বিধানসভায় আসন রয়েছে ২৮৮টি। হরিয়ানায় রয়েছে ৯০টি। তবে বেশিরভাগ বুথ ফেরত সমীক্ষাই এগিয়ে রেখেছে বিজেপিকে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী মহারাষ্ট্রে ভোট পড়েছে প্রায় ৫৫ শতাংশ এবং হরিয়ানায় পড়েছে ৭২ শতাংশেরও বেশি। ১৯৬৭ সালেও হরিয়ানায় ৭২ শতাংশ ভোট পড়েছিল।
মহারাষ্ট্র রাজ্যে গত ১৫ বছর ধরে শাসন করে আসা কংগ্রেস ও শারদ পাওয়ারের এনসিপি বিপুল ভোটে পরাজিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নির্বাচনের আগে এ দুটি দলে বিভক্তি দেখা দেয়।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মহারাষ্ট্র রাজ্যের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন এবং ২৭টি সমাবেশে ভাষণ দেন।প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এটিই নরেন্দ্র মোদীর সামনে জনপ্রিয়তার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ তাই মোদি খুবই গুরুত্বের সাথে এই নির্বাচনে প্রচারণা চালান।
একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলছেন, বুথ ফেরত ভোটারদের মতামত সঠিক হলে বলতে হয় মোদি প্রভাব আবারো কাজ করেছে।
তিনি বলেন, এর মানে জনগণ বিজেপিকে একটা সুযোগ দিতে চাচ্ছে এবং তারা উন্নয়ন কর্মসূচিকেই অগ্রাধিকার দিয়েছে।
এবিপি নিউজ চ্যানেলের জন্য এসি নেলসন পরিচালিত এক্সিট পোল অনুযায়ী মহারাষ্ট্র রাজ্যে বিজেপি পেতে পারে ১৪৪ আসন, শিবসেনা ৭৭, কংগ্রেস ৩০, এনসিপি ২৯ এবং এমএনএস ৩।
মহারাষ্ট্রের জন্য টি চানক্য এক্সিটপোলে বলা হয়েছে, বিজেপি ১৫১ আসন, শিবসেনা ৭১, কংগ্রেস ২৭, এনসিপি ২৮ এবং এমএনএস ১১টি আসনে জিততে পারে।
উল্লেখ্য, মহারাষ্ট্রে মোট ভোটার প্রায় সওয়া আট কোটি। পুরুষ-মহিলা পরিচিতির বাইরে এই তালিকায় অন্যান্য হিসেবে ৯৮৪ জন ভোটার আছেন বলে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে। এই রাজ্যে মোট ২৮৮টি আসনে লড়াই করছেন ৪ হাজার ১১৯ জন। এঁদের মধ্যে মহিলা প্রার্থীর সংখ্যা ২৭৬। ৮৩টি আসনে প্রায় ১৫ জন করে প্রার্থী দাঁড়িয়েছেন। একটি আসনে আবার ৩২ জনেরও বেশি প্রার্থী লড়াই করছেন। বিজেপি ২৮০টি আসনে, বসপা ২৬০টি, সিপিআই ৩৪টি, সিপিএম ১৯টি, কংগ্রেস ২৮৭টি, এনসিপি ২৭৮টি, শিবসেনা ২৮২টি এবং মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা ২১৯টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলির পাশাপাশি ১৬৯৯ জন নির্দলীয় প্রার্থী এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।
অন্য দিকে, হরিয়ানায় মোট আসন সংখ্যা ৯০। কংগ্রেস এবং বিজেপি সব ক'টি আসনেই প্রার্থী দিয়েছে। ৮৮টি আসনে লড়াই করছেন জাতীয় লোকদলের ৮৮ জন প্রার্থী। দলের হয়ে প্রচারে নেমেছিলেন ওমপ্রকাশ চৌটালা। কিন্তু অসুস্থতার কারণে জামিন নিয়ে ভোটের প্রচার করায়, আদালতের নির্দেশে ফের তাঁকে জেলে যেতে হয়েছে। বিএসপি এই রাজ্যে ৮৭টি আসনে, হরিয়ানা জনহিত কংগ্রেস ৬৫টি আসনে, সিপিএম ১৭টি আসনে এবং সিপিআই ১৪টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। নির্দল প্রার্থীর সংখ্যা ৬০৩। প্রায় ২৭০০ বুথকে স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করে প্রশাসন। সুষ্ঠু ভাবে নির্বাচন করাতে প্রশাসনের তরফে ভিডিও ক্যামেরা এবং সিসিটিভি-র ব্যবস্থা করা হয়।
দুই রাজ্যেই তারকা প্রার্থী প্রচুর। মহারাষ্ট্রে রয়েছেন পৃথ্বীরাজ চহ্বাণ, অজিত পওয়ার, আর আর পাটিল, ছগন ভুজবল, দেবেন্দ্র ফড়নভিস, একনাথ খাড়সে, বিনোদ তাওড়ে, পঙ্কজা মুন্ডে, রাজেন্দ্র দারদা প্রমুখ। অন্য দিকে, হরিয়ানায় এ দিন যে সব তারকা প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারিত হয়েছে তাঁরা হলেন, ভূপেন্দ্র সিংহ হুদা, রণদীপ সুরজেওয়ালা, অভয় চৌটালা, বিনোদ শর্মা, কুলদীপ বিশনোই প্রমুখ।
মহারাষ্ট্রে বিজেপি জয়ী হলেও মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন সে বিষয়ে পরিষ্কার কোনো ধারণা নেই। তবে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে মহারাষ্ট্র বিজেপি প্রধান দেবেন্দ্র ফাড়নবিশ অথবা সিনিয়র বিজেপি নেতা একনাথ খাসের মধ্যে একজনকে বেছে নেওয়া হবে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে।
অপরদিকে হরিয়ানায় বিজেপি জিতলে ধারণা করা হচ্ছে জাঠ বংশোদ্ভূত সাবেক সেনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন অভিমেন্যু এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাও ইন্দ্রজিত সিংয়ের মধ্যে থেকে একজন বসতে পারেন মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে।
ইআর





