সংবিধানের ৩০৭ দ্বারা বিলুপ্তির পর কাশ্মীরকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে ভারত। কোনো প্রকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বর্তমানে সচল নেই। টেলিভিশন থেকে শুরু করে, ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এমনকি সড়ক যোগাযোগও বন্ধ করে রাখা হয়েছে।
যার কারণে গত ৪ দিনে অচল অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে কাশ্মীরে। থমকে গেছে অর্থনীতি। কাশ্মীরকে বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি সেখানে চলছে ভারতীয় বাহিনীর নির্যা্তন ও ধরপাকড়। কোনো প্রকার বিক্ষোভ বা প্রতিবাদ করতে দিচ্ছে না কাশ্মীরিদেরকে।
এখনো পর্যন্ত জারি আছে ১৪৪ দ্বারা। গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে স্থানীয় নেতাদেরকে। বিক্ষোভ করতে গেলে চলছে সরাসরি গুলি।
সর্বশেষ তথ্যমতে কাশ্মীরে বিক্ষোভ করতে গেলে ভারতীয় বাহিনীর গুলিতে এ পর্যন্ত ৬ জন নিহত হয়েছে। আর আটক করা হয়েছে প্রায় ৫ শতাধিক।
ভারতীয় দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়, গতকালের মতোই ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে শ্রীনগরের রাস্তায় বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন কাশ্মীরের সাধারণ জনগণ।
বৃহস্পতিবারও শ্রীনগর থেকে দফায়-দফায় বিক্ষোভ মিছিলের খবর এসেছে। পুঞ্চ, কার্গিল ও কুপওয়ারায় বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।
আনন্দবাজার জানায়, বিজেপি সরকারের একতরফা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ধীরে ধীরে রাস্তায় নামতে শুরু করেছেন বিক্ষুদ্ধ কাশ্মীরি জনগণ। বিক্ষোভকারীদের দমাতে ছররা গুলি ছুড়েছে দেশটির আধা-সামরিক বাহিনী।
ছররার আঘাতে শ্রীনগরের হরি সিংহ হাসপাতালে নতুন করে শতাধিক মানুষকে ভর্তি করা হয়েছে। যাদের মধ্যে বেশ কয়েক জন দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে বিক্ষোভ ঠেকাতে দেশের বাকি অংশের সঙ্গে হিমালয় অঞ্চলটির সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে।
এই মুহূর্তে ভারতনিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীর বিশ্বের সবচেয়ে সামরিকীকৃত এলাকায় পরিণত হয়েছে। সেনাবাহিনী, আধা-সামরিক বাহিনী ও পুলিশ সদস্য মিলিয়ে সেখানে সাত লাখের বেশি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
অস্থায়ী কারাগার বানানো হয়েছে হোটেল, গেস্ট হাউস, সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন ভবনকে। কাশ্মীরের পুরো উপত্যকাটি যেন পরিণত হয়েছে একটি কারাগারে।
জেড





