যুদ্ধ বিধস্ত ইরাকের বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ অর্থের অভাবে শুধুমাত্র দু'বেলা দু'মুঠো খাবারের আশায় আইএসআইএল (ইসলামিক স্টেট অব ইরাক এন্ড দি লেভান্ট)-এর সঙ্গে যোগ দিতে বাধ্য হতে পারেন বলে আশংকা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।

বুধবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক সংবাদ সম্মেলনে ইরাকের ইউএন মিশনের প্রধান জ্যান কুবিস বলেছেন, "আমরা খুবই উদ্বিগ্ন যে, অর্থের অভাবে জাতিসংঘের নেয়া কর্মসূচিগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ইরাকের অনেক সম্প্রদায় ও পরিবার জীবন বাঁচানোর তাগিদে আইএসএল-এর কাছ থেকে সাহায্য নিতে বাধ্য হচ্ছেন।"

কুবিস জানিয়েছেন যে প্রায় ৮২ লাখ ইরাকিদের জন্য জরুরী মানবিক সহায়তা দরকার। যাদের মধ্যে প্রতি চার জনে এক জনের অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন।

তিনি বলেন, "বিপজ্জনক অবস্থায় থাকা ইরাকের সাধারণ মানুষের জন্য আরো মানবিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা দানের জন্য আমি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আবেদন করছি।"

কুবিস আরো জানিয়েছেন, ইরাকে আইএসএল তাকফিরি গোষ্ঠীদের সহিংসতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ৩০ লাখেরও বেশি মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি থেকে উৎখাত হয়েছেন। এছাড়া আরো ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে।

কুবিসের মতে, সরকারি বাহিনীর প্রচেষ্টা ও মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট-বাহিনীর বিমান হামলার পরও সেখানে এখনও পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন আসেনি।

তিনি জানিয়েছেন, চলতি বছরের মার্চে যখন মধ্য ইরাকের শহর তিকরিত শহর মুক্ত করা হল, তার দুই মাসের মধ্যেই মে মাসে পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশের রাজধানী রামাদি আইএস-এর দখলে চলে গেছে।

তিনি ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের আশংকা প্রকাশ করে বলেন, "এই সংঘর্ষে মানবিক ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ ধারণার চেয়েও বহুগুনে বেশি যা কাটিয়ে উঠতে দীর্ঘ সময় লাগবে।"

গত সপ্তাহে প্রকাশিত জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৪ সালের মার্চ মাস থেকে ইরাকে প্রায় ১৫ হাজার সাধারণ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে এবং আরো ৩০ হাজারকে আহত করা হয়েছে।

জাতিসংঘের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এছাড়া তিন লাখ মানুষ নিরাপত্তার জন্য উদ্বাস্তু হয়েছেন। বেশির ভাগই আইএসএল নিয়ন্ত্রিত সিরিয়া থেকে সীমান্ত পার হয়েছেন।

কুবিস সর্তক করে জানিয়েছেন, ৮০টি স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সুবিধা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে এবং দাতা রাষ্ট্রগুলোর কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা না পেলে আরো অনেক জীবনরক্ষাকারী কর্মসূচি বন্ধ হয়ে যাবে।"

এই সপ্তাহের শুরুর দিকে জাতিসংঘ জানিয়েছে, আগামী ছয় মাসের জন্য আশ্রয়, খাদ্য, পানি ও অন্যান্য সুবিধার জন্য গত জুনে আবেদন করা ৪৯৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধ্যে মাত্র আট শতাংশ অর্থ এখন পর্যন্ত ছাড়া হয়েছে।

২০১৪ সালের জুনে ইরাক দখলের অভিযান শুরু করে আইএসআইএল। ভারি-অস্ত্রে সজ্জিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটি উত্তরাঞ্চলীয় শহর মুসল দখল করে নেয়ার আগে দেশটির পশ্চিমাঞ্চল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। (সূত্র:প্রেসটিভি)

জেডআই, কেবি