বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া তিন দিনের ভারত সফরের সময় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার জন্য ভারত ৫০ কোটি ডলার ঋণ দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। রাশিয়ার অস্ত্র ও খুচরা যন্ত্রাংশ এবং মিগ-২৯এস জঙ্গিবিমান এবং সেইসাথে মিগ-৩৫ বিমান কেনার দিকে নজর বাংলাদেশের।
খবরে প্রকাশ, বাংলাদেশীদের প্রশিক্ষণ প্রদান এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং গবেষণায় সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে ভারত। সামুদ্রিক নিরাপত্তায়ও সহযোগিতা করতে আগ্রহী ভারত। ভারতীয় কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের পায়রা সমুদ্রবন্দর উন্নয়নে আগ্রহ প্রকাশ করছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সফরকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সাথে সাক্ষাত করবেন। ২০১৮ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের আগ দিয়ে জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের লক্ষ্যে এটা তার শেষ সফর বলে আশা করা হচ্ছে।
সার্বিকভাবে আশা করা হচ্ছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারতের সাথে প্রায় ৩০টি চুক্তিতে সই করবেন। বেশির ভাগ চুক্তিই প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও অবকাঠামো-সংক্রান্ত। তবে বৃহস্পতিবার টাইমস অব ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা সবচেয়ে বেশি করে যেটি চেয়েছিলেন, তথা তিস্তা নদীর পানি, সেটিই সম্ভবত পাচ্ছেন না। অথচ প্রায় দুই দশক ধরে এ নিয়ে আলোচনা চলছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, প্রতিরক্ষা-সংশ্লিষ্ট অর্থায়নের বিষয়টি আফগানিস্তানের সাথে করা ভারত ও রাশিয়ার চুক্তির মতোই। ওই ত্রিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী, আফগানিস্তানে রাশিয়ার অস্ত্র বিক্রির জন্য অর্থায়ন করবে ভারত।
সেন্টার ফর এনালাইসিস অব ওয়ার্ল্ড আমর্স ট্রেড গত মার্চে এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর জন্য আটটি বহুমুখী জঙ্গিবিমানের দরপত্রে সম্ভবত মিগ-৩৫ জয়ী হয়েছিল।
বাংলাদেশে অস্ত্রের প্রধান সরবরাহকারী চীন। অবশ্য রুশ অস্ত্রের ওপরও ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তাছাড়া দেশটি রুশ-নির্মিত বিটিআর ট্যাঙ্কস, মিগ বিমান ও মিগ-১৭ হেলিকপ্টারও ব্যবহার করে। ২০১৬ সালে চীনের কাছ থেকে দুটি সাবমেরিন কেনে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ এখন মরিনফর্মসিস্টেম-অগাটের তৈরি উপকূলীয় প্রতিরক্ষাব্যবস্থার কেনার কথাও ভাবছে।
মুম্বাইভিত্তিক ইকোনমিক টাইমস শুক্রবার জানিয়েছে, বাংলাদেশের সাথে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তি করবে ভারত। এটা হবে দক্ষিণ এশিয়ায় দিল্লি ও এর প্রতিবেশীদের মধ্যে এ ধরনের প্রথম চুক্তি।
ভারত যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের জন্য ৫০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে, সেটাও দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দেশকে প্রথম।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, সামরিক সরঞ্জামের জন্য চীনের ওপর বাংলাদেশের নির্ভরশীলতা কাটানোর কৌশল হিসেবে দেশটির প্রতি এমন উদার মনোভাব দেখাচ্ছে ভারত। ইকোনমিক টাইমসের খবরে বলা হয়, প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে অভিন্ন প্রতিরক্ষা প্লাটফর্মের জন্য উৎপাদন ও পরিষেবা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর সাথে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত ভারত।
এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশ দীর্ঘ মেয়াদে প্রতিরক্ষা শিল্পে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে ভারতের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য শেখ হাসিনা ব্যাপক সমালোচনার মুখে রয়েছেন।
ভারত বর্তমানে নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার এবং আফগানিস্তানে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ করছে। তবে এই অ লে অস্ত্র উৎপাদন ও সংযোজন কারখানা স্থাপনের ঘটনা এটাই প্রথম। তবে এতে করে দীর্ঘ মেয়াদে অন্যান্য দেশ থেকে অস্ত্র আমদানি বন্ধ হয়ে যাবে, সামরিক সরঞ্জামের জন্য পুরোপুরি ভারতের ওপর নির্ভরতা থাকবে।
ভারতের পররাষ্ট্রনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ উপাদান হিসেবে প্রতিরক্ষা কূটনীতি স্থান পাওয়ার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সাথে নতুন চুক্তিগুলো করতে যাচ্ছে ভারত।(southasianmonitor)
এমবি





