ফ্রান্সের জাতীয় বিমান সংস্থা এয়ার ফ্রান্সের পাইলটরা চারদিনের ধর্মঘট শুরু করেছেন। এতে হাজার ফুটবলামোদির বিমান ভ্রমণ পরিকল্পনা ব্যাহত হচ্ছে। এ বছরের ইউরো ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে ফ্রান্সের দশটি শহরে।

পাইলট ধর্মঘটের কারণে এয়ার ফ্রান্সকে শনিবার ৩০ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল করতে হয়। কিন্তু সংস্থাটি বলছে, টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো যে শহরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, সেই শহর অভিমূখি ফ্লাইটগুলো চালু রাখার উপর তারা অগ্রাধিকর দিচ্ছে।

নতুন শ্রম আইন বাতিল করার দাবি জানাচ্ছে পাইলট ইউনিয়ন। এই আইনের ফলে সংস্থার কোনো কর্মচারীকে বরখাস্ত করা যেমন সহজ হবে, তেমনি সহজ হবে হবে কাউকে নিয়োগ দেয়াও। ফ্রান্সের বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন এখন ধর্মঘট করছে।

ফলে বুধবার থেকে প্যারিসের রাস্তায় রাস্তায় ময়লা আবর্জনা স্তুপ হয়ে আছে, সরানো হচ্ছে না সেগুলো। নয়দিন ধর্মঘট করার পর অতি সম্প্রতি ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। পেট্রোল স্টেশনে তেল বিতরণ চালু হয়েছে। ধর্মঘটিরা তেল শোধনাগারগুলো অবরোধ করে রাখায় পেট্রোল স্টেশনে তেল পাঠানো সম্ভব হয়নি।

ফরাসী প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁশোয়া ওলাঁদ টুর্নামেন্টে বিঘ্ন সৃষ্টি না করার জন্য ইউনিয়নগুলোকে সাবধান করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, সবাইকে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে। পক্ষান্তরে রাষ্ট্র রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালন করবে। দরকার হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নেবে রাষ্ট্র।

তিনি আরও বলেন, যারা ধর্মঘটে অংশ নিচ্ছেন এবং যারা এর আয়োজন করেছেন তাদেরও এই প্রতিযোগিতাটি সফল করে তোলার একটি দায়িত্ব রয়েছে।

পাইলট ইউনিয়ন বলছে, তাদের ধর্মঘট চলবে শনিবার থেকে বুধবার পর্যন্ত। কিন্তু কোম্পানীর প্রধান নির্বাহী ফ্রেডরিক গগেই অঙ্গীকার করে বলেছেন, যে সব শহরে খেলা অনুষ্ঠিত হবে সে সব শহরে বিমান চলাচলে বিঘ্ন সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করা হবে।

তিনি বলেন, ‘অবশ্যই, ইউরো ফুটবল টুর্নামেন্টটির কথা মাথায় রাখবো।’ধর্মঘটের কারণে বিমান সংস্থাটির দৈনিক ক্ষতি হচ্ছে ৫ মিলিয়ন ইউরো।

ফ্রান্সের মোট ১০টি শহরে এই টুর্নামেন্টের খেলাগুলো অনুষ্ঠিত হচ্ছে। খেলা চলার সময়ে ৭ মিলিয়ন লোক এই শহরগুলোতে আসবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এফএফ