ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) রাশিয়াকে এক সপ্তাহের সময় বেধে দিয়ে বলেছে, এর মধ্যে মস্কোকে ইউক্রেন প্রশ্নে হয় অবস্থান পরিবর্তন করতে হবে অথবা নতুন করে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হবে।

ইউরোপীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট হারম্যান ভ্যান রম্পি বলেন, ইইউ আরো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য জরুরী ভিত্তিতে কাজ করছে।

এর আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পেত্রো পোরোশেঙ্কো বলেন, তার দেশ রাশিয়ার সঙ্গে সর্বাত্মক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে।

রাশিয়ার সৈন্যরা বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সহায়তার জন্য ইউক্রেন সীমান্ত অতিক্রম করেছে বলে পশ্চিমাদের অভিযোগ মস্কো অস্বীকার করেছে।

রাশিয়াপন্থী বিদ্রোহীরা দোনেতস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চলে সম্প্রতি ইউক্রেন সৈন্যদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়লাভ করেছে। যুদ্ধে এখন পর্যন্ত দুই হাজার ৬শ’ জন নিহত হয়েছে।

পশ্চিমা নেতারা বলেছেন, রাশিয়ার সামরিক ইউনিট ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে যে ইউক্রেনের অভ্যন্তরে কর্মকান্ড চালাচ্ছে তার স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে।
ব্রাসেলসে সম্মেলনের পর ভ্যান রম্পি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির আলোকে ইইউ আরো উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা যে দ্রুতই পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছি সে সম্পর্কে সবাই অবগত আছে।’
তিনি নিষেধাজ্ঞার ধরণ সম্পর্কে কোন কিছু উল্লেখ করেননি। তবে তিনি বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই প্রস্তাব প্রস্তুত করা হবে।

ইইউ এর অন্যান্য নেতৃবৃন্দও ভ্যান রম্পির সুরে কথা বলেছেন। জার্মানীর চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল বলেন, ইউক্রেন প্রশ্নে মস্কোর অবস্থান পরিবর্তন না হলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। তিনি আরো বলেন, সংঘাতের কোন সামরিক সমাধান নেই।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ বলেন, ‘আমরা কী পরিস্থিতিকে চরম খারাপের দিকে নিয়ে যাচ্ছি ? পরিস্থিতি কি যুদ্ধের দিকে যাচ্ছে ? কারণ আজ সে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সময় নষ্ট করার এখন সময় নেয়।’
হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগের মহিলা মুখপাত্র কেইতলিন হাইডেন বলেন, ‘ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় অখন্ডতার প্রতি জোরালো সমর্থন এবং আগামীতে আরো নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি বিবেচনায় নেয়ার ক্ষেত্রে ইউরোপীয় পরিষদের ঐকমত্যকে আমরা স্বাগত জানায়।’

ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের বেশ কয়েকজন বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা ও উর্ধ্বতন রাশিয়ার কর্মকর্তাদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ বাজেয়াপ্ত করেছে।

লিথুয়ানিয়ার প্রেসিডেন্ট ডালিয়া গ্রিবাউসকাইটি বলেন, রাশিয়া ইউরোপের বিরুদ্ধে কৌশলগত যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের ইউক্রেনকে সমর্থন এবং দেশটির নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সহায়তা করতে সেখানে সামরিক সরঞ্জামাদি পাঠানো জরুরী।’

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন বলেন, ইউক্রেনের মাটিতে রাশিয়ার সৈন্য ইইউ এর কাছে সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অবশ্যই পরিণতি ভোগ করতে হবে। সূত্র: এএফপি

ঢাকা, ৩১ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, টিআই