ভারতে নারীদের দিয়ে যৌনব্যবসা নতুন নয়।ভারতের সব জায়গায় উন্মুক্ত ভাবেই চলে এই ব্যবসা।এই ব্যবসা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নারীদের নিয়ন্ত্রন করতে দেখা যায়। তবে নতুন করে মহিলারা ঝুকছেন অভিনব এক ব্যবসায় তা হল "ধর্ষণ ব্যবসা"।

রাজধানী দিল্লিতে ধর্ষণের অভিযোগের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। অভিযোগ বৃদ্ধির কারন সনাক্ত করার চেষ্টা করছে দিল্লি মহিলা কমিশন। কিন্তু তদন্ত করতে গিয়ে চক্ষু কপালে উঠেছে তাদের কারণ দায়ের করা অভিযোগের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই ভুয়া!

দিল্লি পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩-র এপ্রিল থেকে ২০১৪-র জুলাই পর্যন্ত ২,৭৫৩ টি ধর্ষণের মামলা রুজু করা হয়েছে। তার মধ্যে তদন্ত করতে গিয়ে দেখা গিয়েছে ১,৪৬৬ টি মামলাই ভুয়া।

দিল্লি মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন বরখা সিং এ ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন,কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থচরি তার্থ করতে, নয় প্রতিশোধ নিতে, নয়তো স্রেফ ব্যবসা করার খাতিরে মামলা রুজু করছেন অনেক মহিলারা। পুরুষদের ব্লাকমেইল করে টাকা আদায় করাই তাদের লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, 'আমরা এই মামলাগুলি খুবই গুরুত্ব সহকারে দেখেছি। অনেক মহিলাই আইনের ধারাকে নিজেদের ব্যবসার হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করছেন।'

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এবছর প্রথম ছয় মাসে ৯০০টি ভুয়ো মামলা করা হয়েছে যেখানে ২০১৩ সালের জুন থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত ৫২৫ টি ভুয়া ধর্ষণের মামলা হয়েছিল, চলতি বছর প্রথম ৬ মাসে যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, হয় লিভ-টুগেদার থাকা কোনো মহিলা ধর্ষণের মামলা রুজু করেছে, নয়তো শ্বশুর বাড়ির সদস্যদের হয়রানির জন্য মামলা করছেন মহিলারা।

এছাড়াও অভিজাত শ্রেণীর কাউকে মামলর ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আদায়ের লক্ষেও অনেকের নামে ধর্ষণের মামলা হচ্ছে বলে জানান মহিলাকমিশনেরসদস্যসুধাটোকস।

তিনি বলেন, কয়েক মাস আগে দিল্লিতে এক মহিলা ভাড়াটে বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেন। তদন্ত করার সময় আমরা তাকেজিজ্ঞাসা করেছিলাম, আদালত কী ব্যবস্থা নিলে তিনি খুশি হবেন, তার উত্তর ছিল ৩২ লক্ষ রুপি চাই।পরে আমরা হাসপাতালে শারীরিক পরীক্ষার কথা বললে, তিনি তা দিতে অস্বীকার করেন। এমনকি আদালতে আইনি সাহায্য নিতেও অস্বীকার করেন তিনি। আরও তদন্ত করে জানা যায়, পুরো মামলাটিই ভুয়ো। টাকা আদায় করার জন্যই তিনি অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।

ভারতের অনেক জায়গায়ই ধর্ষণ নিয়ে অভিযোগ নিতে চায়না পুলিশ এমন তথ্য প্রচুর মিলবে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ভুয়া মামলা হলেও সত্যিকারে যদি কোনো নির্যাতিতা সুবিচার পান তাহলে হয়তো ধর্ষণের সংখ্যা কমবে। আর ভুয়া মামলা করার ক্ষেত্রে যদি শাস্তি বাধ্যতা মূলক করা না হয় তাহলে হয়রানির সংখ্যা অনেক বাড়বে এবং এর সংখ্যা হয়তো নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।

ইআর