এটি ২০১৪ সালের ঘটনা। মাইকেল ব্রাউন একটি সুপার শপ দোকানে প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে গেলেন। ক্রয় করা পর দোকান থেকে বের হলে তাকে কোন কথা ছাড়াই সরাসরি গুলি করে পুলিশ। অভিযোগ সে দোকানটিতে ডাকাতি বা লুটপাট করতে গিয়েছিল। বলে রাখা ভালো মাইকেল ব্রাউন একজন আফ্রিকা আমেরিকান নিগ্রো বালক। ঘটনাটি ঘটেছিল আমেরিকা মিসিসরি রাজ্যের ফারগুসন শহরে।

ঘটনার পরে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে স্থানীর নিগ্রো বাসিন্দারা। তখন এই মিথ্যা ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য একটি ভিডিও প্রকাশ করে পুলিশ। যেখানে ব্রাউনকে ঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয় নাই। বরং ভিডিও এডিটিং এর মাধ্যমে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যেন যে ডাকাতি করার জন্য দোকানে গিয়েছিল। ফলে সেখানে প্রতিবাদের স্থবিরতা চলে আসে ফারগুসন শহরের মানুষদের।

 

সম্প্রতি একটি ভিডিও প্রকাশ পায়। এই ভিডিওটি প্রকাশ করে জেসন পলক নামের এক ডকুমেন্টারি ফিল্মমেকার। নতুন করে প্রকাশ পাওয়া ঐই ভিডিওতে দেখা যায় ব্রাউন স্বাভাবিকভাবে গাড়ী থেকে নেমে দোকানে প্রবেশ করে। তারপর স্বাভাবিকভাবেই দোকান কর্মচারী থেকে জিনিস ক্রয় করে বেরিয়ে আসে। পুরো ভিডিওর মাধ্যমে কোন অস্বাভাবিক আচরণ দেখা যায় না। তাহলে সে কিভাবে দোকানের জিনিস লুটপাট করল।

এই ভিডিও নতুন করে আবার প্রশ্ন ও আন্দোলনের জন্ম দেয়। সোমবার রাতে ভিডিও প্রকাশ হওয়ার পর রাস্তায় নেমে ফারগুসন শহরের লোকজন। বিক্ষোভ শুরু করে তারা। সংবাদ মাধ্যমের সর্বশেষ তথ্য মতে বিক্ষোভ থেকে পুলিশের গুলির আওয়াজ শুনা গেলেও কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। বরং একজন বিক্ষোভকারীকে আটক করতে গেলে আহত হয় একজন পুলিশ। আমেরিকার এই বর্ণবৈষম্যের প্রতি তাদের প্রতিবাদ অবিরাম চলবে বলে বিক্ষোভকারীরা জানায়।

উল্লেখ আমেরিকা সভ্য দেশ হিসেবে মানুষের স্বীকৃতি নিলেও অনাদিকাল থেকে নিগ্রো অর্থ্যাৎ কালোদের প্রতি তাদের বর্ণবৈষম্য চলে আসছে। আর কালোরাও তাদের প্রতি এই বর্ণবৈষম্যের নিস্ফল প্রতিবাদ করেই যাচ্ছে।
জেড