কারাগার ভেঙে পালানোর দায়ে মিসরের ক্ষমতাচ্যুত ইসলামপন্থী প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন সে দেশের একটি আদালত।

এই মামলায় গত ১৬ মে মুরসিসহ অন্তত ১০০ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন আদালত।

এ ছাড়া গুপ্তচরবৃত্তি ও ষড়যন্ত্রের অন্য একটি মামলায় আজ মুরসিসহ ১৭ জনকে যাবজ্জীবন ও ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন অন্য একটি আদালত। আজ (মঙ্গলবার) এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

মিসরের নিয়মানুযায়ী মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর দেশটির গ্র্যান্ড মুফতির সঙ্গে রায়ের বিষয়ে আলোচনা করা হয়। ইসলামিক আইনের বিষয়ে মুফতি দেশটির সরকারকে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। মুফতির পরামর্শ অনুযায়ী আজ মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন আদালত। তবে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে। যদিও তিনি ওই আদালতকেই অবৈধ আখ্যা দিয়েছেন।

এ রায়ে আরও মৃত্যুদণ্ড হয়েছে মুসলিম ব্রাদারহুড নেতা মোহাম্মদ বাদায়ি এবং তাঁর সহকারী খয়রাত আল-শাতেরের। তবে সাজাপ্রাপ্ত অন্যদের অনেকেই পলাতক। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কাতারে বসবাসরত ইসলামি নেতা ইউসুফ আল-কারাযাভী।

হত্যা এবং পুলিশ অপহরণের দায়ে বাদায়ি আরেকটি মামলার বিচারে মৃত্যুদণ্ড পেয়েছেন।

গুপ্তচরবৃত্তি ও ষড়যন্ত্রের মামলায় যাবজ্জীবন

এর আগে আজ সকালে গুপ্তচরবৃত্তি ও ষড়যন্ত্রের অন্য আরেকটি মামলায় মুরসি, বাদায়ি এবং আরও ১৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিদের মধ্যে ব্রাদারহুড নেতা খয়রাত আল-শাতেরও আছেন। তবে রায় ঘোষণার সময় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ১৬ জনের মধ্যে ১৩ জন আসামিই অনুপস্থিত ছিলেন। এ রায়ের বিরুদ্ধেও আপিল করা যাবে।

এই মামলায় মুরসিসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিন ও লেবাননের কট্টরপন্থী কয়েকটি গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগসাজশ করে মিসরে হামলা চালানোর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়।

সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার দায়ে আরেকটি মামলায় ইতিমধ্যে মুরসির ২০ বছরের সাজা হয়েছে।

‘আরব বসন্ত’ নামে পরিচিত গণজাগরণের ফল হিসেবে দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসক হোসনি মোবারকের পতনের পর গণতান্ত্রিকভাবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন মুরসি। তবে তাঁর শাসনামলের এক বছর ঘুরতে না ঘুরতেই বিভিন্ন কারণে গণবিক্ষোভ শুরু হয়। ২০১৩ সালে তখনকার সেনাপ্রধান এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিসরের ক্ষমতা দখল করেন।

কেএইচ