লন্ডনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের নেতা কর্মীদের তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়ে জীবন বাঁচাতে শেখ হাসিনার গাড়ী অতিদ্রুত তাজ হোটেলের ভিতরে ঢুকে পড়ে।
বিরোধীজোটের নেতাকর্মীরাদের তীব্র বিক্ষোভের মুখে রোববার লন্ডনে পৌঁছেছেন শেখ হাসিনা। আবারো প্রতিবাদ আবারো শেখ হাসিনার ইমেজ সংকট। নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন, বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের দমন-পীড়নসহ গুম-খুন ইস্যুতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক উত্তাপ এবার ছড়িয়ে পড়েছে লন্ডনেও।
যেখানে হাসিনা সেখানেই প্রতিরোদ এমন স্লোগান এখন বিএনপি কর্মীর মুখে মুখে। এরই সাথে যোগ দিচ্ছেন অন্যান রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলো। ফলে শেখ হাসিনার এই সফর নিয়ে লন্ডনে তৈরী হয়েছে টান টান উত্তেজনা।
লন্ডন সফরকে কেন্দ্র করে সেন্ট্রাল লন্ডনের ওয়েস্ট মিনিস্টারের তাজ হোটেলের সামনে স্থানীয় সময় বেলা ২ টা থেকে ৭টা পর্যন্ত ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করে ২০ দলীয় জোটের নেতা কর্মীরা ও যুক্তরাজ্য বিএনপির বিভিন্ন জোনের বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, জাসাস, তরুণ দল, মহিলা দল, এবং প্রবাসী বাংলাদেশিসহ সকলস্থরের হাজার হাজার নেতাকর্মী অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ করেন।
তীব্র প্রতিবাদের মুখে শেখ হাসিনা তাজ হোটেলের গেইটের কিছু দূরে গাড়ী থেমে যায় এবং হাসিনা তাঁর দলের নেতাদের ও ডিজিএফআই গোয়েন্দাদের সবুজ সংকেতের অপেক্ষা করতে থাকে ।
এ সময় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দীকি নাজমুল আলম ও ঢাবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিমু এগিয়ে যায় হাসিনা গাড়ীর কাছে, তাদেরসহ যেই হাসিনার গাড়ী হোটেলের গেইটের কাছে পৌঁছে তখনই ২০ দলীয় জোটের নেতা কর্মীরা বৃষ্টির মতো হাসিনার গাড়ীকে লক্ষ্য করে বোতল, পঁচা ডিম, ঝাড়ু, জুতা, ঢিল ছুড়ে মারতে থাকে আর জীবন বাঁচাতে শেখ হাসিনার গাড়ী দ্রুত তাজ হোটেলে ঢুকে পড়ে।
তীব্র বিক্ষোভের মুখে নাজমুল, হিমুসহ আওয়ামী লীগের নেতারা হোটেলের সামনে দিয়ে না ঢুকে বিকল্প ব্যবস্থায় প্রবেশ করতে দেখা গেছে। এইবারের লন্ডন সফরকে কেন্দ্র করে ব্যাপক গোয়েন্দা তৎপরতা হাসিনা বৃদ্ধি করে বৃটিশ বাংলাদেশীদের বিক্ষোভের মুখে থেকে বাঁচতে কিন্তু ফলাফল উল্টে হলো অতীতের যেকোনো বিক্ষোভ থেকে এবারের বিক্ষোভে বেশি পরিমাণে ২০ দলীয় জোটের নেতা কর্মী ছাড়াও বৃটেন প্রবাসী বিভিন্ন শ্রেণি পেশার সাধারণ মানুষ অংশ গ্রহণ করে ।
শেখ হাসিনার গাড়িবহর ওয়েস্ট মিনিস্টারের তাজ হোটেলের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় আন্দোলনকারীরা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মুহুর্মুহু স্লোগান দিতে থাকে। পরিস্হিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পাঁচ শতাদিক বৃটিশ পুলিশ খিমশিম খায়। শেখ হাসিনা যতদিন লন্ডনে অবস্থান করবে ততদিন এই হোটেলের সামনে ২০ দলীয় জোটের নেতা কর্মীরা বিক্ষোভ করবে বলে জানান বিএনপি’র সভাপতি এম এ মালেক।
বিক্ষোভ কর্মসূচী প্রসঙ্গে যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক বলেন, বাংলাদেশের অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে যে কোনো মূল্যে প্রতিহত করা হবে। গনতান্ত্রীক দেশ বৃটেনে কোনো স্বৈরাচারের জায়গা হবেনা। যেখানেই হাসিনা সেখানেই প্রতিরোধ এই মর্মে শপথ নিয়ে কর্মসূচী সফল করা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। অবিলম্বে হাসিনাকে পদত্যাগ করে মধ্যবর্তী নির্বাচন দিতে হবে। সমাবেশে তিনি বিরোধী দল ও মতের নেতাকর্মীদের ওপর অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী শেখ হাসিনার বিভিন্ন বাহিনীর নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের তীব্র নিন্দা জানান তিনি ।
প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সহস্রাধিক নেতাকর্মী যোগ দেয়। এ কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেয় যুক্তরাজ্য জামায়াত সমর্থক অনেক প্রবাসী। দলটি তাদের আমীরে জামায়াত মাওলানা নিজামীর ফাসির নামে হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধেও স্লোগান দেয়। ব্যানার ও ফেস্টুন উঁচু করে প্রতিবাদ জানায়।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ইউরোপের মূখপাত্র ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা বলেন, ক্ষমতা দখলের পর থেকেই এই ফ্যাসিস্ট সরকারবিরোধী দলের নেতাকর্মীদের হত্যা, গুম ও নির্যাতনের যে স্টিম রোলার চালাচ্ছেন তা ১৯৭১ সালের পাক বাহিনীর বর্বরতাকেও হার মানায়। অত্যাচার ও নির্যাতন চালিয়ে কোনো সরকারই টিকে থাকতে পারেনি আর শেখ হাসিনাও পারবেন না। বাংলাদেশের জনগণ তাকে টেনে হিঁচড়ে ক্ষমতা থেকে নামাবে।
এদিকে বুলগেরিয়ায় অনুষ্ঠেয় গ্লোবাল উইমেন লিডারস ফোরামে যোগ দিতে ইউরোপের পথে রওনা হয়ে লন্ডন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
যুক্তরাজ্যে দুদিন অবস্থান করে বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়ায় যাবেন শেখ হাসিনা। সেখানে বুধ থেকে শুক্রবার অনুষ্ঠেয় উইমেন লিডারস ফোরামে অংশ নেবেন তিনি।রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে লন্ডনের পথে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী।
বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় (লন্ডন সময় বিকাল ৪টা) তিনি লন্ডন পৌঁছান।হিথরো বিমানবন্দরে শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানান তার ছেলে ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবদুল হান্নান।
জয় যুক্তরাষ্ট্র থেকে যুক্তরাজ্যে গেছেন। শেখ হাসিনার সঙ্গে তার বোন শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি রয়েছেন।বিমানবন্দরের বাইরে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা জড়ো হয়ে শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানান। উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৩ সালে লন্ডনে শেখ হাসিনার সফরকে ঘিরে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদশর্ন করে।
সমাবেশে বক্তারা কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যুক্তরাজ্যের যেখানে শেখ হাসিনা সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। তারা অবিলম্বে শেখ হসিনাকে পদত্যাগ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দেয়ার দাবি জানান।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের উদ্যোগে ওয়েস্ট মিনিস্টারের তাজ হোটেলের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে ইউকে বিএনপি’র সভাপতি এম এ মালেকের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, যুক্তরাজ্য বিএনপি সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমেদ্, বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ইউরোপের মূখপাত্র ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা, জমিয়তে ওলামা ইউকের সভাপতি মুফতি শাহ সদর উদ্দিন, বিএনপির নেতা আব্দুল হামিদ চৌধুরী, আবুল কালাম আজাদ, লুৎফর রহমান, আকতার হোসেন, গোলাম রব্বানী, ফরিদ উদ্দিন, শহিদুল ইসলাম, তাজ উদ্দিন, কামাল উদ্দিন, শামসুর রহমান, জসিম উদ্দিন, নাসিম আহমেদ চৌধুরী, খস্রুজ্জামান খসরু, জাহেদ আলী, শামীম আহমেদ, নসরুল্লাহ খান যুনায়েদ প্রমুখ ।
এমই





