ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সহায়তা বিষয়ক জাতিসংঘের এজেন্সি- ইউএনআরডাব্লিউএ’র প্রতি আর্থিক সাহায্য বন্ধ করে দেয়ায় আমেরিকার সমালোচনা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

এক বিবৃতিতে এই অমানবিক সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য ইইউ ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিন, লেবানন, জর্দান ও সিরিয়ায় যে সংস্থার তত্ত্বাবধানে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য শত শত স্কুল পরিচালিত হয় তার প্রতি আর্থিক সাহায্য বন্ধ করার আমেরিকার উচিত হবে না।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত শুক্রবার (৩১ আগস্ট) ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সহায়তা বিষয়ক জাতিসংঘের এজেন্সি- ইউএনআরডাব্লিউএ’র প্রতি সব ধরনের আর্থিক সহায়তা বন্ধ করে দেয়ার কথা ঘোষণা করে।

আমেরিকা এর আগের ২৪ আগস্ট গাজা উপত্যকা ও জর্দান নদীর পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য ২০ কোটি ডলারের সাহায্য বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দেয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার কথিত ‘শতাব্দির সেরা চুক্তি’মেনে নিতে ফিলিস্তিনিদের বাধ্য করার জন্য এইসব বৈরি সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বলে পর্যবেক্ষকদের ধারনা।

‘শতাব্দির সেরা চুক্তি’পরিকল্পনা অনুযায়ী ফিলিস্তিনিরা বায়তুল মুকাদ্দাসকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে ছেড়ে দেবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত ফিলিস্তিনি শরণার্থীরা তাদের দেশে ফিরতে পারবে না বরং গাজা উপত্যকা ও পশ্চিম তীরের যতটুকু অংশে বর্তমানে তারা অবরুদ্ধ হয়ে রয়েছে শুধুমাত্র সেটুকু ভূমি নিয়ে তাদেরকে সন্তুষ্ট থাকতে হবে। 

এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ট্রাম্প ২০১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর বায়তুল মুকাদ্দাসকে অবৈধ ইসরাইল সরকারের রাজধানী ঘোষণা করেন এবং চলতি বছরের ১৪ মে ঘোষণা বাস্তবায়িত হয়।

অথচ মুসলমানদের প্রথম ক্বিবলা সমৃদ্ধ শহর বায়তুল মুকাদ্দাস ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ এবং বিশ্ব মুসলিমের ৩ টি পবিত্র স্থানের অন্যতম হিসেবে বিবেচিত। শহরটি ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে ইহুদিবাদী ইসরাইল দখল করে নেয়।  

এমবি