বাংলাদেশী-আমেরিকান পরিচালিত নিউইয়র্কের শীর্ষ স্থানীয় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে জোহরের নামাজ আদায়ের সময় এক দুর্বৃত্তের আক্রমণে দুই মুসল্লি আহত হয়েছেন।

আক্রমণের পর পালিয়ে যাওয়ার সময় দুর্বৃত্তকে আটক করেছে পুলিশ ।এ ঘটনায় মুসল্লিদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

জ্যামাইকা মুসিলিম সেন্টার (জেএমসি)-এর অফিস ম্যানেজার আব্দুল ওয়াহিদ খান ইউএনএ প্রতিনিধিকে জানান, ১৯ এপ্রিল মঙ্গলবার দুপুরে জোহরের নামাজ আদায়ের সময় মুসল্লিরা যখন তৃতীয় রাকাতের নামাজে অবস্থান করছিলেন তখন কৃষ্ণাঙ্গ এক দুর্বৃত্ত সেন্টারের ভিতরে প্রবেশ করে উল্টা-পাল্টা কথা বলতে থাকে এবং মুসল্লিদের কাউকেই সেল ফোন ব্যবহার করতে নিষেধ করে।

এসময় জেএমসি’র পেশ ইমাম মির্জা আবু জাফর বেগ নামাজে ইমামতি এবং শতাধিক মুসল্লি নামাজ আদায় করছিলেন। দুর্বত্তের কথায় নামাজিরা কর্ণপাত না করে ইমামের নেতৃত্বে নামাজ আদায় করতে থাকলে দৃর্বৃত্ত নামাজিদের মাঝে চলে যায় এবং তাদের উদ্দেশ্যে ‘টেরোরিস্ট’ জাতীয় শব্দ সহ উল্টা-পাল্টা কথা বলতে থাকে। এতে নামাজ আদায়ে ব্যাঘাত ঘটছে দেখে এক পর্যায়ে একজন ইয়েমেনী মুসল্লি দু’হাত তুলে তাকে নিবৃত করার আহ্বান জানালে দৃর্বৃত্ত অতর্কিতে ইয়েমেনী মুসল্লিকে হাত দিয়ে আঘাত করে। পরবর্তীতে ঐ দুর্বৃত্ত বাংলাদেশী-আমেরিকান মুসল্লি ইঞ্জিনিয়ার কামাল ভুঁইয়ার উপর আক্রমণ চালায় এবং আঘাতে কামাল ভুঁইয়ার কান ফেটে যায়। তিনি রক্তান্ত হন।  

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মুসল্লিরা নামাজ শেষ না করেই দুর্বৃত্তকে আটক করার চেষ্টা করে। কিন্তু সকল বাধা অতিক্রম করে সে জেএমসি সংলগ্ন ১৬৮ স্ট্রীট ধরে জ্যামাইকা হাই স্কুলের দিকে দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালালে মুসল্লিদের কেউ কেউ তার পিছু নেয়। ইতোমধ্যে পুলিশ কল করলে সিটি পুলিশ আর ফায়ার সার্ভিসের লোকজন জেএমসি সহ এলাকাটি ঘিরে ফেলে এবং পুলিশ দুর্বৃত্তকে ধরার জন্য তল্লাশী চালায়। এরপর উলঙ্গ অবস্থায় জ্যামাইকা স্কুল মাঠ থেকে পুলিশ দুর্বৃত্তকে আটক করতে সক্ষম হয়।

ঘটনার ব্যপারে তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তা। আহত জেএমসি’র দুই মুসল্লিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

 

এমআইএস