ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। সোমবার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সে প্রস্তাবটি পাস হয়েছে। অবশ্য এ প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা সরকারের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। প্রস্তাবটি মূলত প্রতীকি।

ছয় ঘণ্টা বিতর্কের পর ব্রিটিশ সংসদের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সে ২৭৪ বনাম ১২ ভোটে প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়। ফিলিস্তিন ও ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ গভীর মনোযোগের সাথে ভোটাভুটি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে। প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন শ্রমিক দলের এমপি গ্রাহাম মরিস।

গ্রাহাম মরিস বলেন, "মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে ঔপনিবেশিক শক্তি হিসেবে বিরাজ করায় ফিলিস্তিনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে নৈতিকভাবে বাধ্য ব্রিটেন।"

যুক্তরাজ্য এখনো ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকার করে নেয়নি, তবে জানিয়েছে, যদি ফিলিস্তিনি ও ইসরাইলের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়, তবে তারা যেকোনো সময় এটা স্বীকার করে নেবে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ভোটাভুটির সময় অনুপস্থিত ছিলেন। তবে তার মুখপাত্র ইতোপূর্বে জানিয়েছিলেন, এই ভোটাভুটির ফলাফল যা-ই হোক না কেন, তাদের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না।

ব্রিটিশ সংসদে বিতর্ক চলাকালে ফিলিস্তিনিদের অন্তহীন দুর্ভোগ ও দুর্দশার বিষয়টি তুলে ধরেন অনেক সংসদ সদস্য।

সুইডেন সম্প্রতি ফিলিস্তিনকে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার পর ব্রিটিশ সংসদে এ বিষয়ে বিতর্ক হলো। স্বাভাবিকভাবেই ব্রিটিশ সংসদের এ বিতর্কের প্রতি বিশ্বের নজর ছিল। সুইডেনের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইহুদিবাদী ইসরাইল। এ ছাড়া, ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতির প্রশ্নে মার্কিন সমালোচনাকেও পাত্তা দেয়নি সুইডেন।

অবশ্য, ব্রিটিশ সংসদ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর ইউরোপের অনেক দেশই একই সিদ্ধান্ত গ্রহণে এগিয়ে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সূত্র: আইআরআইবি

এসএমএ