নির্বাচনে দল জয় পাওয়া সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট হতে পারেননি অং সান সুচি। তবে তার দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) নতুন সরকারে ভিন্ন কৌশলে এমন সুযোগ সৃষ্টি করছে তাতে আগামী দিনে অং সান সুচিকেই কার্যত প্রধান নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় দেখা যাবে।

অর্ধ শতকেরও বেশি সময় পর মিয়ানমারে প্রথম বেসামরিক প্রেসিডেন্ট হিসেবে বুধবার শপথ নেন সুচির বিশ্বস্ত বলে পরিচিত থিন কিয়াও। এর আগে নতুন মন্ত্রিসভার তালিকা চূড়ান্ত করে দেশটির পার্লামেন্ট। এতে পররাষ্ট্র, প্রেসিডেন্ট কার্যালয়, শিক্ষা এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সুচিকে।

এবার সূচির জন্য আরো বেশি সুযোগ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নিয়ে এগুচ্ছে ক্ষমতাসীন এনএলডি। এরই মধ্যে এ সংক্রান্ত বিলের খসড়া প্রস্তুতের কাজও শুরু হয়েছে। বিলটি পার্লামেন্টে পাস হলে মিয়ানমারে ‘প্রধানমন্ত্রী’র মতো একটি পদ সৃষ্টি হবে।

ধারণা করা হচ্ছে, নতুন পদটির নাম হতে পারে ‘রাষ্ট্রের উপদেষ্টা’। আর এ নতুন পদ পেলে সরকার নিয়ন্ত্রণে আরো বেশি ক্ষমতাধর হবেন সুচি। জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালেই ঘোষণা দিয়ে রেখেছিলেন তিনি, প্রেসিডেন্ট হতে না পারলে তার ওপরে থাকবেন।

আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বস্ত ব্যক্তিকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করা, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ চারটি মন্ত্রণালয় নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখা ও প্রধানমন্ত্রীর মতো পদ সৃষ্টি করে তাতে আসীন হওয়ার অর্থ একটাই-প্রেসিডেন্ট না হয়েও প্রেসিডেন্টের মতো করে দেশ পরিচালনা করবেন সুচি।

বিগত সেনা সরকারের নানা শর্তের বেড়াজালে নির্বাচনে অংশ নেয় সূচির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি)। বিপুল ভোটে বিজয়ীও হয় তার দল। কিন্তু দুই সন্তান ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী হওয়ায় জাতীয় নির্বাচনে দল জয় পাওয়া সত্ত্বেও তিনি প্রেসিডেন্ট হতে পারেননি।

এআইজে