আসামে নাগরিকপঞ্জি তৈরির নামে বাঙালিদের টার্গেট করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তার নির্দেশে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদরা আজ (বৃহস্পতিবার) সংসদের সামনে বিক্ষোভ জানাচ্ছেন।
মুখ্যমন্ত্রী বুধবার এক জনসভায় রীতিমত হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বাঙালিদের গায়ে হাত পড়লে তিনি ছেড়ে কথা বলবেন না।
আসামের জাতীয় নাগরিকপঞ্জির (এনআরসি) প্রথম খসড়া ঘিরে উদ্ভুত পরিস্থিতির উল্লেখ করে মমতা বলেছেন, ষাট ও সত্তর দশকের বাঙালি খেদাওয়ের ফলে পশ্চিমবঙ্গে বহু বাঙালি চলে আসতে বাধ্য হয়েছিলেন। এবারও তেমন পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে।
৩১ ডিসেম্বরের মধ্যরাতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ও তত্ত্বাবধানে এনআরসির প্রথম তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
নাগরিকপঞ্জিতে নাম তোলার জন্য আবেদন করেছিলেন আসামের ৩ কোটি ২৯ লাখ মানুষ। এদের মধ্যে ১ কোটি ৯০ লাখ মানুষের নাম উঠেছে। বহু বাঙালির নাম ওঠেনি তালিকায়। ফলে তারা আতঙ্কে রয়েছেন।
অথচ বহুদিন দেশের বাইরে কাটানো পরেশ বড়ুয়ার মতো জঙ্গির নাম রয়েছে তালিকায়। পাশাপাশি ওই তালিকায় নাম নেই আসামে বসাবসকারী অনেক রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধির।
ইতিমধ্যেই এ নিয়ে সরব আসামের বরাক ও ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার বিভিন্ন বাংলাভাষী সংগঠন। মমতারও আশঙ্কা, এর পরে আসামের বাঙালিদের বিতাড়ন শুরু হবে।
তিনি কেন্দ্রীয় ও আসামের বিজেপি সরকারের নাম না করেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, আগুন নিয়ে খেলবেন না। অবশ্য মমতার কড়া মনোভাব নিয়ে আসামের বিভিন্ন দলের নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিজেপির মতে, মমতা হয় নাগরিকপঞ্জি ব্যাপারটা বোঝেন নি, না হলে ইচ্ছাকৃতভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সিদ্ধির জন্য এমন মন্তব্য করেছেন।
এমবি





