এক বোতল সস্তা হুইস্কি। নিজের শিশুকন্যার এই দাম ধার্য করল এক বাবা। আর সেই মদ পেতেই এক বছরের মেয়েকে অনায়াসে বিক্রি করে দেয় সে। এই প্রথম নয়, এর আগেও মদ কেনার টাকা জোগাড় করতে নিজের বড় মেয়েকে সে বিক্রি করে দিয়েছিল বলে অভিযোগ তার স্ত্রীর।
মোহন কেওয়াত নামে মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা বছর চল্লিশের ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুই মেয়েকে উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।
মধ্য প্রদেশের দাতিয়া জেলা শহরের বাসিন্দা মোহন কেওয়াত দীর্ঘদিন ধরেই বেকার। লোকের বাড়ি কাজ করে সংসার চালান তার স্ত্রী পুষ্পা। শুক্রবার বিকেলে চার বছরের ছেলে ও এক বছরের মেয়েকে ঘরে রেখে কাজে বেরিয়েছিলেন তিনি। বাড়ি ফিরে মেয়ে রাধিকাকে আর দেখতে পান না পুষ্পা।
মোহনকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে সে এড়িয়ে যায়। মোহনের ভাবগতি দেখে সন্দেহ হয় পুষ্পার। প্রতিবেশীদের খবর দেন তিনি। সবাই মিলে এসে চেপে ধরলে শেষমেশ নিজের মেয়েকে বিক্রি করে দেওয়ার কথা স্বীকার করে সে। মদের টাকা জোগাড় করতেই ১৫০ টাকায় রাধিকাকে সে বেচে দিয়েছে বলে জানায়।
পরে পুলিশের সামনে অবশ্য এ কথা ফের অস্বীকার করে সে। দু'জন অপরিচিত লোক এসে রাধিকারে তুলে নিয়ে যায় বলে দাবি করে মোহন। তবে এবার মুখ খোলে মোহন-রাধিকার পাঁচ বছরের ছেলে। বাবাই বোনকে সঙ্গে করে বাড়ি থেকে বেরোয় ও পরে একা বাড়ি ফেরে বলে জানায় সে।
রাধিকাকে কোনও যৌনপল্লী অথবা নারী পাচারকারীদের হাতে বেচে দেওয়া হয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন তার মা পুষ্পা। স্থানীয় মদের দোকানও জানিয়েছে যে ধারে আর মোহনকে মদ দেবে না, বলে দিয়েছিল তারা।
এরপরই মোহন বাড়ি যায় ও কিছুক্ষণ পরে টাকা নিয়ে ফের দোকানে আসে। এর আগেও মোহন মদের টাকার জন্য তার বড় মেয়েকে বিক্রি করে দিয়েছিল বলে জানিয়েছেন পুষ্পা।
[b]ঢাকা, ২৭ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই[/b]