ভয়ংকর করোনা মহামারিতে বিশ্বে মৃতের সংখ্যা ৪০ লাখ ছাড়িয়েছে। অপরদিকে যেসব দেশ বা জনগোষ্ঠী এখনও টিকা নেয়নি সেখানে ভয়াবহতা সৃষ্টি করছে এই ভাইরাসের নতুন নতুন ভ্যারিয়েন্ট।

আবার সার্স-কোভ-২ বা করোনা ভাইরাস গবেষণাগার থেকে ছড়িয়ে পড়েছে কিনা তা নিয়ে অব্যাহতভাবে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। তা নিয়ে চলছে বিতর্ক।
এরই মধ্যে খুব বেশি প্রচারণা পেয়েছে যে, করোনা ভাইরাস চীনের একটি ল্যাবরেটরি থেকে ছড়িয়ে পড়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সায়েন্স এলার্ট।

এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যেমন সংশয় প্রকাশ করেছিলেন, বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও ঠিক তেমনই। তিনিও এ বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

কিন্তু বিশ্বের শীর্ষ স্থানীয় ভাইরাস বিশেষজ্ঞরা ও একজন নোবেল পুরস্কার বিজয়ী, এখন পর্যন্ত এমন দাবির বিজ্ঞানসম্মত কোনো প্রমাণ নেই বলে মন্তব্য করেছেন। তাদের সঙ্গে আছেন একদল বিজ্ঞানী।

তারা একটি গবেষণাপত্র লিখেছেন। এর শীর্ষ লেখক ও ভাইরাস বিশেষজ্ঞ এডওয়ার্ড হোমস। তিনি এই মহামারির আগে কাজ করেছেন ভাইরাস নিয়ে। বিশেষ করে ইবোলা মহামারি এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা সৃষ্টিকারী ভাইরাস নিয়ে তিনি কাজ করেছেন।

তিনি বলেছেন, এখন পর্যন্ত আমরা যেসব ডাটা পেয়েছি তা নিয়ে সতর্কতার সঙ্গে এবং গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণে এমন কোনো প্রমাণ পাইনি যে, করোনা ভাইরাসের উৎস হলো একটি ল্যাবরেটরি।

তবে এ বিষয়টি একেবারেই উড়িয়ে দেয়া যায় না। বিজ্ঞানীদের এই গ্রুপটি তাদের রিপোর্টে বলেছেন, মানুষের কর্মকা-ের কারণে, যেমন- বন ধ্বংস করা এবং বণ্যপ্রাণির বাণিজ্যের মতো কর্মকা-ের সঙ্গেও এই ভাইরাসের যোগসূত্র থাকতে পারে। ফলে এই ভাইরাসের উৎস সম্পর্কে বার বার আমাদেরকে একটি সংঘাতময় অবস্থানে ফেলা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ল্যাব থেকে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া অসম্ভব নয়। এই বিষয়টি আমাদেরকে অধিক জরুরি বৈজ্ঞানিক কর্মকা- থেকে দৃষ্টি অন্যদিকে ফিরিয়ে দিচ্ছে। যেমন- করোনার উৎস কোনো প্রাণি হতে পারে কিনা তার তদন্ত অথবা পরবর্তী মহামারি সম্পর্কে আমাদের প্রস্তুতির বিষয়।

করোনা ভাইরাসের উৎস হতে পারে প্রাণি এর পক্ষে কিন্তু তথ্যপ্রমাণ আছে। কারণ, বাদুর এবং প্যাঙ্গোলিনে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। তাদের মাধ্যমে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হয়ে থাকতে পারে এই ভাইরাস।

তবে কেউ যদি ল্যাবরেটরিতে এই ভাইরাসকে কৃত্রিম উপায়ে তৈরি করে থাকে, তাহলে এই প্রক্রিয়ায় জেনেটিক মেকার থাকবে। যা এক্ষেত্রে পাওয়া যায়নি। এক্ষেত্রে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় এই ভাইরাস মানুষে সংক্রমিত হতে পারে বলে মনে করেন ফ্রাঁসিস ক্রিস ইনস্টিটিউটের ভাইরাস বিশেষজ্ঞ জোনাথন স্টোই।

এইচএন