মিসরের একটি টেলিভিশনে অনুষ্ঠান চলাকালে দেওয়ালে সিসি একজন বিশ্বাসঘাতক লেখা দেখা যাওয়ায় টেলিভিশন কর্তৃপক্ষকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়েছে।
মিসরের ইতিহাসে গত ৫০ বছরের মধ্যে স্বৈরাচারী শাসক হোসনি মুবারকের পতনের পর নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
দেশটির সামরিক বাহিনীর প্রধান জেনারেল আব্দেল ফাত্তাহ সিসি ক্ষমতা দখল করে দেশ শাসন করলেও কোনো জনসমর্থন নেই। এবং তার এ শাসনের বিরুদ্ধে প্রবল জনবিরোধ রয়েছে। তাই প্রায়শ: দেওয়ালে সিসি বিশ্বাসঘাতক এধরনের লেখা দেখা যায়।
সর্বশেষ একটি টেলিভিশন ধারাবাহিক চলাকালে দেওয়ালে সিসি একজন বিশ্বাসঘাতক এমন লেখা দেখা যায়। শনিবার ‘লা তোতফিয়া’ আল শামস’ বা দি সান নেভার সেটস অর্থাৎ সূর্য কখনো অস্ত যায় না এমন এক ধারাবাহিক চলাকালে গ্রাফিতিতে এধরনের লেখা দেখা যাওয়ায় তা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়।
ওই ধারাবাহিকে দুই তরুণ তরুণী যখন হেঁটে যাচ্ছিল তখন পাশেই দেওয়ালে গ্রাফিতিতে লেখা ছিল ইংরেজিতে সি সি এরপর আরবীতে খাইন অর্থাৎ সিসি বিশ্বাসঘাতক।
টেলিভিশন দর্শকরা ওই দৃশ্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করলে তা ভাইরাল হয়ে পড়ে। এরপর টনক নড়ে মিসর সরকারের। টেলিভিশন কর্তৃপক্ষকে শুধু মাফই চাইতে হয়নি, ঘোষণা দিয়ে বলতে হয়েছে এধরনের কাজ ‘সন্ত্রাসী ব্রাদারহুড’ এর কার্যকলাপ।
ব্রাদারহুডের সঙ্গে সন্ত্রাসী শব্দটি বাধ্যতামূলক জুড়ে দেয় মিসরের সিসি প্রশাসন। ব্রাদারহুড বা ইখওয়ানুল মুসলেমুনের আন্দোলনের ফলেই স্বৈরাচার হোসনি মুবারকের পতন ঘটে এবং নির্বাচন দিতে বাধ্য হয় মিসরের প্রশাসন।
তবে এধরনের আন্দোলন সৌদি আরব, আমিরাত, বাহরাইন, ইয়েমেন সহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর রাজতান্ত্রিক শাসকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় এবং তারা ব্রাদারহুডকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে অভিহিত করতে থাকে।
সর্বশেষ কাতারের সঙ্গে সৌদি নেতৃত্বে মধ্যপ্রাচ্যের যে কয়েকটি দেশ কাতারের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করেছে তাদের অন্যতম দাবি হচ্ছে কাতার ব্রাদারহুডকে সহায়তা করছে। কাতার অবশ্য এধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এর আগে মিসরে এক কৃষক তার প্রিয় গাধার নাম সিসি রাখার কারণে তার সাজা হয়েছিল। সর্বশেষ টেলিভিশনের ওই ধারাবাহিক নাটকের প্রতিটি এপিসোড পরীক্ষা করে সিসি বিশ্বাসঘাতক এমন গ্রাফিতি লেখা কোনো ফুটেজ থাকলে তা বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ বিশেষ করে সৌদি আরবে আল-জাজিরা টেলিভিশন দেখা বা কাতারের পক্ষে কিছু বললে তা শাস্তিমূলক অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করে মোটা অংকের জরিমানার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মিসরের ওই টেলিভিশন ধারাবাহিকের অভিনেতা আহমেদ মালিককে নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে নিয়ে কৌতুক করার জন্যে গ্রেফতার করা হয়। পরে আহমেদ মালিক ক্ষমা প্রার্থনা করেন। মিসরের নাট্যকার ইহসান আব্দেল কুদ্দুস রচিত ‘ লা তোতফিয়া’ আল শামস’ ধারাবাহিক নাটকটি সিবিসি টেলিভিশনের অফার হিসেবে রমজান উপলক্ষে টেলিভিশনে প্রচার হচ্ছিল।
জেড





