তুরস্কের সেনাবাহিনীর একটি অংশ দেশটির ক্ষমতা দখলের ঘোষণা দিয়েছে। সরকারি টেলিভিশন স্টেশন, পার্লামেন্ট ভবনসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে নিয়েছে তারা।
তবে অভ্যুত্থান ঘটানোর চেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। শুক্রবার অভ্যুত্থান ঘটানোর চেষ্টা করা হলে ছুটিতে থাকা এরদোগান রাতেই ইস্তাম্বুলে ফিরে আসেন। বিদ্রোহী সেনাদের সঙ্গে সংঘর্ষে বেসামরিক নাগরিকসহ ২০০ জন নিহত হয়েছে বলে বার্তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে।
এদিকে প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সংঘর্ষে ২০০ জন নিহত হয়েছে। এদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক। আগে অভ্যুত্থানকারী সেনারা পুলিশের স্পেশাল ফোর্সের সদর দপ্তরে হেলিকপ্টার দিয়ে হামলা চালালে নিহত হয়েছেন ১৭ পুলিশ কর্মকর্তা। তবে ওই হেলিকপ্টারটিকে ভূপাতিত করা হয়েছে বলে প্রেসিডেন্টের সদর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে। শনিবার দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে বিপথগামী সেনাদের সঙ্গে সংঘর্ষে ১ হাজার ১৫৪ জন আহত হয়েছে বলে আনাদুলু নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম বলেছেন, পরিস্থিতি এখন সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। রাজধানী আঙ্কারার আকাশে বিমান উড্ডয়ন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিদ্রোহীরা যেসব হেলিকপ্টার ব্যবহার করছে, সেনাবাহিনীকে সেগুলো ভূপাতিতের নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
এরদোগানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (একেপি) সমর্থকেরা রাস্তায় নেমে এসেছে। তাদের সঙ্গে অভ্যুত্থানকারীদের সংঘর্ষ চলছে।
কয়েক ঘণ্টা ধরে নৈরাজ্যকর অবস্থা চলার পর আজ শনিবার সকালে ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে পৌঁছান এরদোগান। সেখানে দেওয়া ভাষণে তিনি পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেন।
তিনি বলেন, এ ধরনের অভ্যুত্থান জনগণের সঙ্গে প্রতারণা। অভ্যুত্থানকারীদের এ জন্য চড়া মূল্য দিতে হবে। তুরস্ককে কোনো দখলদারের কাছে দেওয়া হবে না। একেপির শত শত সমর্থককে শুভেচ্ছা জানান এরদোয়ান।
আনাদোলুর বলছে, আঙ্কারায় পার্লামেন্ট ভবনের কাছে বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার দাবি করলেও এএফপি, বিবিসি ও রয়টার্সের খবরে ঘটনাস্থলে থাকা গণমাধ্যমকর্মীদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, আঙ্কারা ও ইস্তাম্বুলে সংঘর্ষ চলছে। চলছে বিস্ফোরণ, গোলাগুলি। আকাশে উড়ছে জঙ্গিবিমান।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাসহ পশ্চিমা দেশগুলোর বিশ্বনেতারা তুর্কি সরকারকে সমর্থন জানিয়েছেন।
সেনাবাহিনীর কোনো কর্মকর্তা হামলার দায় নেয়নি। তুরস্কে ১৯৬০ সাল থেকে তিনবার সেনা অভ্যুত্থান চেষ্টা ঘটে।
জেড/এমই





