বাংলাদেশে সম্প্রতি যে দুই বিদেশী নাগরিককে হত্যা করা হয়েছে তাতে আই এস (ইসলামিক স্টেট)-এর দায় স্বীকারের বিষয়ে মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে বার বার দৃষ্টি আকর্ষনের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী বলেন, তারা যে কথা বলছেন তার উত্তর তারাই দিতে পারেন, ওদের উত্তর তো আমরা দিতে পারিনা।
এ সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রী মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া ব্লুম বার্নিকাটের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, আই এস থাকার বিষয়ে তাদের কাছে তথ্য থাকলে তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখুক, আমরা কিভাবে বলবো?
আজ (রোববার) বিকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। জেনেভাতে জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে বাস্তচ্যুতির বিষয়ে বিশ্ব সম্মেলনে অংশগ্রহণ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রী এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, আমরা যেটা বলতে পারি তা হলো-সরকার সম্পূর্ণ তৈরি, পরিস্থিতি সম্পূর্ণরুপে সরকারের নিয়ন্ত্রনে। সব কিছুই ঠিকমতো চলছে।
তবে, সবশেষ গতকাল (শনিবার) মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বার্তায় বলা হয়, বিদেশী নাগরিকদের নিরাপত্তায় সরকার অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও এখনও সন্ত্রাসী হামলার হুমকি রয়েছে- এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, আগেও মার্কিন দূতাবাস এ ধরনের সতর্কতা জারি করেছিল, সবশেষ সতর্কতা তার থেকে বেশি কিছু নয়। নতুন কোন কথাই সবশেষ এই বার্তায় নেই।
সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, এই অ্যালার্ট রেড অ্যালার্ট নয়। অ্যালার্টের ক্ষেত্রে যে চারটি ধাপ রয়েছে বাংলাদেশ এখনও সেক্ষেত্রে দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে। এর পরে রয়েছে তৃতীয় ও চতুর্থ ধাপ। সেই ধাপে পৃথিবীর ৫৮টি দেশ রয়ে রয়েছে।
বাংলাদেশে অবস্থানকারী বিভিন্ন দেশের কুটনীতিকরা তাদের দেশের নাগরিকদের বাংলাদেশ সফরের বিষয়ে যে সতর্কতা জারি করছেন তার মধ্য দিয়ে মূলত বাংলাদেশকে হেয় করা হচ্ছে-যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এমন মন্তব্যের বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন করা হলে তিনি বলেন, অন্যান্য রাজনীতিবিদ বা মন্ত্রী যে মন্তব্য করেছেন সে ব্যাপারে আমাদের কোন মন্তব্য নেই। আমরা আমাদের বক্তব্য পরিস্কারভাবেই বলেছি।
তিনি বলেন, এই অ্যালার্ট- তাকে আপনারা যে নামেই ডাকুন না কেন- এর পরও বাংলাদেশে বিদেশীদের আগমনে কোন প্রভাব পড়েনি। গত বছর এই সময়ে অর্থাৎ সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে বাংলাদেশে বিদেশীদের আগমন ও প্রস্থানের যেই চিত্র ছিল এ বছরেও এই সময় পর্যন্ত একই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে।
সম্প্রতি দুই বিদেশী নাগরিক হত্যার পর একের পর এক আমেরিকাসহ পশ্চিমা দেশের রাষ্ট্রদূতরা তাদের নাগরিকদের বাংলাদেশের ব্যাপারে যে সতর্ক করছেন তাতে পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের অবনতির ইংগিত পাওয়া যাচ্ছে কিনা- জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটা মোটেই ঠিক নয়।
তিনি বলেন, আগের তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই তারা তাদের দেশের নাগরিকদের পুনরায় সতর্ক করেছেন। তবে আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের সাথে কথা বলেছি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে বাংলাদেশ সরকার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে আসামীদের ধরার জন্য।
তিনি বলেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা যতটুকু নেয়ার আমরা নিয়েছি। আমাদের সক্ষমতার মধ্যে যতটুকু রয়েছে আমরা তার সবটুকুই গ্রহণ করেছি।
শাহরিয়ার আলম বলেন, আমরা আগেই বলেছি যে এটা নিয়ে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখানোর কিছু নেই। এটা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর কিছু নেই। আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা যে তথ্য দিয়েছে তার ভিত্তিতে কাজ চলছে।
সরকারের পদক্ষেপের প্রতি ইংগিত করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, তারা (বিদেশী রাষ্ট্রদূতরা) শুধু সতর্কতা জারিই করেছে বিষয়টি এমন নয়; এর পাশাপাশি তারা এমনও বলেছেন যে বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে তারা সন্তুষ্ট।
উল্লেখ্য, গত ২৮ সেপ্টেম্বর গুলশান-২ এর ৯০ নম্বর সড়কে ইতালীয় নাগরিক তাবেলাকে দুর্বৃত্তরা হত্যা করে। তাবেলার শরীরে মোট তিনটি গুলি করে দুর্বৃত্তরা।
এই ঘটনার চার দিনের মাথায় ৩ অক্টোবর রংপুরের একটি গ্রামে একই কায়দায় জাপানি নাগরিক কুনিও হোশিকেহত্যা করা হয়।
পর পর এই দুই হত্যার ঘটনায় মার্কিন রাষ্ট্রদূতসহ ঢাকায় অবস্থানকারী বেশ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূতরা বাংলাদেশে সফর ও অবস্থানের বিষয়ে তাদের নাগরিকদের সতর্ক করে আসছেন।
এদিকে, সৌদি আরবের মিনায় পদদলিত হয়ে নিহত হাজিদের মধ্যে বাংলাদেশী কতজন রয়েছেন-সে বিষয়ে সবশেষ তথ্য জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ পর্যন্ত মোট নিহত বাংলাদেশি হাজির সংখ্যা ১৩৭ জন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে, এর বাইরে আরও ৫৩ জন বাংলাদেশী হাজি নিখোঁজ রয়েছেন বলেও জানান তিনি।
কেবি





