ইউক্রেন সংকটকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার কয়েকটি বড় আর্থিক এবং জ্বালানি প্রতিষ্ঠানগুলোকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র৷ ইউরোপীয় ইউনিয়নও চলতি মাসের শেষ নাগাদ এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপের দিকে অগ্রসর হচ্ছে৷

রাশিয়ার উপরে বুধবার এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলো যুক্তরাষ্ট্র৷ ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে অবস্থানরত অস্ত্রধারীদের নিয়ন্ত্রণে দেশটি ব্যর্থ হওয়ায় ওয়াশিংটন এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে৷

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বুধবার বলেছেন, ‘‘আমাদের জোটসঙ্গী, যাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি, তাদের সঙ্গে নিয়ে বারংবার একটি বিষয় পরিষ্কার করে দিয়েছি যে, রাশিয়ার অবশ্যই ইউক্রেনে অস্ত্র এবং যোদ্ধার স্রোত বন্ধ করতে হবে৷''

ওবামা বলেন, ‘‘এ সব বিষয়ে রাশিয়া এখন পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে৷ বরং বিচ্ছিন্নতাবাদীদের প্রতি সমর্থন এবং ইউক্রেনের সার্বভৌমত্বের উপর হস্তক্ষেপ এখনো অব্যাহত রেখেছে সে দেশ৷''

রাশিয়ার ক্রাসনোডার থেকে এসেছে ২৫০ জনের মতো কুবান কোসাক৷ সামরিক বাহিনীর পোশাক পরেননি তাঁরা৷ সেভাস্টোপোলের রুশপন্থি কর্তৃপক্ষ কোসাকদের শপথ পাঠ করিয়েছে৷ স্বেচ্ছাসেবী কোসাকরা জানিয়েছে, ক্রাইমিয়াবাসীদের রক্ষা করার জন্য তারা স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে কাজ করবে৷

বারাক ওবামা মনে করেন, রাশিয়ার উপর জারি করা সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞা শুধু অর্থপূর্ণই নয় সুনির্দিষ্টও৷ আর এই নিষেধাজ্ঞার কারণে মার্কিন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থনীতির যাতে কোনো ক্ষতি না হয় সে দিকেও নজর দেয়া হয়েছে৷

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, নতুন নিষেধাজ্ঞায় মূলত গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক, বাণিজ্যিক এবং প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে৷ এদের মধ্যে রয়েছে ‘ব্যাংক ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ফরেন ইকোনমিক অ্যাফেয়ার্স', গাসপ্রম ব্যাংক, তেল কোম্পানি রসনেফট, প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি নোভাটেক এবং ‘মিলিটারি-ইন্ডাস্ট্রিয়াল কর্পোরেশন৷'

এদিকে, নতুন নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ককে ‘ডেড এন্ড' পর্যায়ে নিয়ে যাবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুটিন৷ আর এ সব নিষেধাজ্ঞা শেষমেষ মার্কিন স্বার্থের পরিপন্থি হবে বলে মনে করেন তিনি৷ওবামা বলেছেন, ‘‘ রাশিয়ার অবশ্যই ইউক্রেনে অস্ত্র এবং যোদ্ধার স্রোত বন্ধ করতে হবে''

এদিকে রাশিয়ার উপর আরো নিষেধাজ্ঞা আরোপের ব্যাপারে মনস্থির করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)৷ ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং স্বাধীনতার উপর প্রত্যক্ষ বা আর্থিকভাবে হস্তক্ষেপ করছে এমন প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনবে ইইউ৷ চলতি মাসের শেষনাগাদ এরকম একটি তালিকা চূড়ান্ত করা হবে বলে ব্রাসেলসে বুধবার এক বৈঠকের পর জানিয়েছেন ইইউ নেতারা৷

পাশাপাশি ইউরোপীয় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংককে রাশিয়ায় বিনিয়োগ না করার আহ্বান জানিয়েছেন ইইউ নেতারা৷ আর ‘ইউরোপিয়ান রিকন্সট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ব্যাংককে' ভবিষ্যতে রাশিয়ায় বিনিয়োগ করতে বারন করা হয়েছে। সূত্র: ডয়চে ভেলে

ঢাকা, ১৮ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) এমএ