তুরস্কের জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পর পদত্যাগ করেছে দেশটির মন্ত্রিসভা। এরইমধ্যে মন্ত্রীদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেফ এরদোগান।

নির্বাচনের পর নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়ায় পুরনো মন্ত্রিসভার পদত্যাগ করা হচ্ছে অনেকটা আনুষ্ঠানিকতা।

এরদোগানের কার্যালয় থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী আহমেদ দাউদওগ্লু মন্ত্রীদের পদত্যাগপত্র প্রেসিডেন্টের কাছে জমা দিয়েছেন এবং এরদোগান তা গ্রহণ করেছেন। দায়িত্ব পালনের জন্য প্রেসিডেন্ট মন্ত্রিসভাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং নতুন মন্ত্রিসভা গঠন না হওয়া পর্যন্ত পুরনো মন্ত্রিসভাকে কাজ চালিয়ে নেয়ার কথা বলেছেন।

নির্বাচনের পর মন্ত্রিসভার পদত্যাগ অনেকটা আনুষ্ঠানিকতা হলেও তুরস্কে এবারের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট খানিকটা ভিন্ন। কারণ ৭ জুন তুরস্কে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানের নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট পার্টি বা একেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।

২০০২ সালে ক্ষমতায় আসার পর একেপি এই প্রথম সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালো। ফলে দলটিকে অন্য দলের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগি করে সরকার গঠন করতে হবে। এতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ইস্যুতে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে এরদোগানের দলকে সমস্যায় পড়তে হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এখনো কোনো দল কোয়ালিশন সরকার গঠনের বিষয়ে আগ্রহ দেখায় নি।

আগামী ২৫ জুন তুরস্কের নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে। এরপর সংসদ সদস্যদেরকে ৪৫ দিনের মধ্যে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের জন্য ঐকমত্যে পৌঁছাতে হবে। তা না হলে প্রেসিডেন্ট নতুন নির্বাচন দিতে বাধ্য হবেন। তুর্কি গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, তুরস্কের ৫৫০ আসনের সংসদে এরদোগানের নেতৃত্বাধীন একেপি পেয়েছে ২৫৮টি আসন।

ইআর