ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের কবল থেকে বাঁচতে সিরিয়া থেকে পালিয়ে বেড়ানো মানুষের সংখ্যা এখন ৪০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের উদ্বাস্তু বিষয়ক সংস্থা-ইউএনএইচসিআর।

ইউএনএইচসিআর (The UN High Commissioner for Refugees-UNHCR)-এর বর্ণনা মতে, কোন একক সংকটের কারণে এটাই বর্তমান পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় উদ্বাস্তুর রেকর্ড।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই ২০১৫)) প্রকাশিত প্রতিবেদনে ইউএনএইচসিআর আরও জানায়, এই উদ্বাস্তুদের প্রায় সবাই প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন।

এর মধ্যে শুধুমাত্র তুরস্কই আশ্রয় দিয়েছে ২০ লাখ সিরীয়কে। আর এর মধ্য দিয়ে বর্তমানে সর্বোচ্চ উদ্বাস্তু আশ্রয়দানকারী দেশ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে তুরস্ক।

বিগত ২৫ বছরের মধ্যে এটাকেই সবচেয়ে ভয়াবহ উদ্বাস্তু সঙ্কট আখ্যায়িত করে ইউএনএইচসিআর বলছে, তুরস্কে আশ্রয় নেয়া ২০ লাখসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে অন্তত ৪০ লাখ ১৩ হাজার সিরিয়ার গৃহহারা মানুষ উদ্বাস্তু হিসেবে আশ্রয় নিয়েছেন।

এছাড়া গৃহযুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্যে নিজ দেশের ভেতরে আরো প্রায় ৭৬ লাখ সিরীয় বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

তুরস্কের পাশাপাশি সিরিয়া থেকে পালিয়ে যাওয়া উদ্বাস্তুদের মধ্যে আড়াই লাখ আশ্রয় নিয়েছেন ইরাকে। এছাড়া জর্ডানে ৬ লাখ ২৯ হাজার, মিশরে ১ লাখ ৩২ হাজার এবং লেবাননে ১ লাখ ১৭ হাজার সিরীয় আশ্রয় নিয়েছেন।

ইউরোপে শরণার্থীর মর্যাদা চেয়ে বা অ্যাসাইলাম (Asylum) হিসেবে আরো ২ লাখ ৭০ হাজার সিরীয় আবেদন করেছেন। আর এদেরকে বাদ দিয়েই ৪০লাখের ওপর সিরীয় উদ্বাস্তুর হিসাব দিয়েছে জাতিসংঘের উদ্বাস্তু বিষয়ক সংস্থা-ইউএনএইচসিআর।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিগত ১০ মাসে প্রায় ১০ লাখ সিরীয় উদ্বাস্তুর জীবন বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন এবং এই সংখ্যা উদ্বেগজনকহারে বেড়েই চলছে।

ইউএনএইচসিআর-এর প্রতিবেদনে আশংকা প্রকাশ করে বলা হয়, চলতি (২০১৫)) সালের শেষের দিকে সিরীয় উদ্বাস্তুর সংখ্যা প্রায় ৪৩ লাখে পৌছতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের মার্চ মাস থেকে সরকারবিরোধী আন্দোলন মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধে সিরিয়ায় এ পর্যন্ত ২ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণহানী ঘটেছে। (সূত্র: আলজাজিরা)

কেবি