পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেছেন, স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়ে আসাম বা কোন অঞ্চল একমত না হলে সেটা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ বিষয় আমরা অবহিত নই।
আজ (সোমবার) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।
তিনিবলেন, বিষয়টি ভারতীয় পার্লামেন্টের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে বলেই আমরা জানি। এই চুক্তির সাথে সে দেশের পত্রপত্রিকায় কি লেখা হলো সেটা আমাদের দেখার বিষয় নয়। আমাদের কাছে আশ্বাস আছে যে স্থল সীমান্ত চুক্তি ভারতের পার্লামেন্টের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইন্দোনেশিয়া সফর উপলক্ষে এই সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব খোরশেদ আলমসহ উর্ধতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
শাহরিয়ার আলম জানান, ইন্দোনেশিয়ার নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি জোকো উইদোদোর আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী ২১-২৩ এপ্রিল ২০১৫ তারিখ পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়া সফর করবেন। এ সময় তিনি ২২-২৩ এপ্রিল ২০১৫ তারিখে জাকার্তায় অনুষ্ঠিতব্য “এশীয়-আফ্রিকাশীর্ষ সম্মেলন”-এ যোগ দেবেন। এই সম্মেলনে “এশীয়-আফ্রিকানয়া কৌশলগত অংশীদারিত্ব” শীর্ষক উদ্যোগের ১০ বছর পূর্তিও উদযাপন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী “এশীয়-আফ্রিকা শীর্ষ সম্মেলন”-এরউদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ ছাড়াও একটি প্লেনারি সেশনে বক্তব্য দেবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। এ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল, নিরাপত্তা ও মিডিয়া টীমের প্রতিনিধিসহ মোট ৫৯ সদস্য সফর করবেন।
তিনি আরো জানান,বর্তমান সরকারের উদ্যোগে আফ্রিকা মহাদেশের দেশগুলোর সাথে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ক্রমশঃ জোরদার হলেও ৫৪টি রাষ্ট্রভিত্তিক আফ্রিকান ইউনিয়নের সাথে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গতিশীল ও অর্থবহ করার ক্ষেত্রে এখনও যথেষ্ট কাজ করার সুযোগ রয়েছে।
বিশেষ করে সাব-সাহারান আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে জাতিসংঘের আওতায় বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা বাংলাদেশের সাথে এসব দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার ভিত্তিতে আরও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন শাহরিয়ার আলম।
এ প্রেক্ষাপটে আসন্ন এশীয়-আফ্রিকা শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আফ্রিকার দেশগুলোর কাছে বাংলাদেশকে একটি শান্তিকামী, উদার, গণতান্ত্রিক, দায়িত্বশীল ও উদীয়মান অর্থনীতির দেশ হিসেবে তুলে ধরা সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনের সাইড লাইনে জাপান, নেপাল, মিয়ানমার, সিঙ্গাপুর ও প্যালেস্টাইন-এর রাষ্ট্র/ সরকার প্রধানদের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।
এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, ইয়েমেন থেকে ৩৩৭ জন বাংলাদেশীকে আমরা ইতোমধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। আরো ১৩৭ জন মঙ্গলবার রাতে ফিরে আসবেন। এছাড়াও আমাদের সাথে এ পর্যন্ত যারা যোগাযোগ করেছে অথবা আমাদের আহবানে সাড়া দিয়ে আমাদের হেফাজতে এসেছ সব মিলিয়ে তাদের সংখ্যা ৫০৮ জন
এদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসী বিরোধী বিক্ষোভকারীরা বাংলাদেশিদের বের করে দিচ্ছে বলে যে খবর শোনা যাচ্ছে যে বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ গুঞ্জন সত্য নয়। সেখানে একটি রাজনৈতিক দল অপপ্রচার চালাচ্ছে। ওই অপপ্রচারের জের ধরেই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
তবে বিক্ষোভে বাংলাদেশীদের কিছু দোকান ভাঙা হয়েছে স্বীকার করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা দূতাবাসের মাধ্যমে সেখানকার বাংলাদেশীদের পরামর্শ দিয়েছে পরিস্থিতি শান্ত না হলে দোকানপাট বন্ধ রাখতে।
এছাড়া, বাংলাদেশীদের জরুরি সহায়তা দিতে দূতাবাসের ২৪ ঘণ্টা হটলাইন চালুর বিবেচনা করা হচ্ছে বলেও জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
কেবি





