সৌদি বাদশাহর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে তেলের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। গত জুন মাসে বিশ্ববাজারে তেলের যা দাম বৃদ্ধি হয়েছে, বাদশাহ আবদুল্লাহর মৃত্যুতে শুক্রবারেই এর অর্ধেকেরও বেশি বৃদ্ধি হয়েছে। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।

আন্তর্জাতিক সময় শুক্রবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম হঠাৎ করেই ৭৮ সেন্ট বেড়ে যায়।

উল্লেখ্য, শুক্রবার ভোরে পরলোকগমন করেন সৌদি বাদশাহ আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ। ইতোমধ্যে তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন তারই ছোট ভাই সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ। শুক্রবারেই সালমান তার পরবর্তী বাদশাহর নাম ঘোষণা করেছেন তার সৎভাই মুকরিন আল সৌদকে। এমন এক সময়ে সৌদি বাদশাহ মারা গেলেন যখন দেশটির সীমান্ত খুবই অস্থিতিশীল। দক্ষিণে ইয়েমেন, উত্তরে সিরিয়া ও উত্তর-পূর্বে ইরাক মারাত্মক অস্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। তেলের বাজারও অস্থিতিশীল।

অবশ্য, নতুন বাদশাহর তেলনীতিতে কোন পরিবর্তন আসছে না বলেই আভাস পাওয়া গেছে। বিশ্বের সর্বোচ্চ জ্বালানি তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব। তেলমন্ত্রী আলী আল-নাঈমি তার স্বপদে বহাল থাকবেন বলেও জানিয়েছেন সদ্য ঘোষিত বাদশাহ সালমান।

জানুয়ারির শুরুর দিকে তেলের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। এমন অবস্থায় তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৪৭ দশমিক ৭৮ ডলার থেকে ৫০ দশমিক ৪৫ ডলার নির্ধারণ করে তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক। নতুন সৌদি বাদশাহ তার ওপেক নীতিতেও কোন পরিবর্তন আনছেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্ববাজারে তেলের সবচেয়ে বড় আমদানিকারক হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র তার নিজস্ব তেল উৎপাদন ব্যাপক হারে বৃদ্ধি করায় তেল আমদানি কমিয়ে দেয়। এর প্রভাব পড়ে বিশ্ববাজারে। বিশ্ববাজারে চাহিদার তুলনায় তেলের যোগান বেড়ে যায়। ফলে দাম পড়ে যেতে থাকে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ওপেকভূক্ত দেশসমূহ তেল উৎপাদন কমিয়ে দেয় এবং বাজারে সরবরাহকৃত অতিরিক্ত তেল দ্রুত প্রত্যাহার করতে তেলের দাম কমিয়ে দেয়।

এমএ