বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ লোপাট করে ফিলিপাইনে পাচার করা ৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের মধ্যে এখন পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া ৫৪ লাখ ৬০ হাজার ডলার ফিরিয়ে আনতে 'কিছুটা সময়' লাগবে।

ফিলিপাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জন গোমেজ ও সে দেশের মুদ্রাপাচার বিরোধী কাউন্সিলের (এএমএলসি) নির্বাহী পরিচালকের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানিয়েছে ফিলিপাইনের সোশ্যাল নিউজ নেটওয়ার্ক 'র‌্যাপলার'।

বুধবার র‌্যাপলারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিলিপাইনের ক্যাসিনো জাঙ্কেট অপারেটর কিম অং এএমএলসির কাছে এখন পর্যন্ত যে ৫৪ লাখ ৬০ হাজার ডলার জমা দিয়েছেন তা নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের লোপাট হওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের মাত্র ৭ শতাংশ।

কিম অং এএমএলসির কাছে অর্থ ফেরত দেওয়ার পর এ নিয়ে খুবই উচ্ছ্বসিত ছিলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জন গোমেজ। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি জানিয়েছিলেন, 'এটি একটি সঠিক পদক্ষেপ।'

চুরি হওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের ৭ শতাংশ বাংলাদেশ সরকার গ্রহণ করেছে—এএমএলসির এমন একটি প্রাপ্তি স্বীকার রশিদে সই করার পরই অবশ্য এমন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন গোমেজ।

তবে অর্থ চুরির বিষয়ে মঙ্গলবার ফিলিপাইনের সিনেটের চতুর্থ শুনানির পরই বদলে যায় গোমেজের বক্তব্য। বৈঠক শেষে তিনি বলেন, 'তাহলে আমরা এখন কী করবো? আপনারা (এএমএলসি) আমাকে বলেছিলেন যে, আমাকে এখনই আসতে হবে। আপনারা বলেছিলেন: আপনাকে এটা [প্রাপ্তি স্বীকার রশিদ] গ্রহণ করতে হবে এবং এটাতে সই করতে হবে। আপনারা আমাদের জানিয়েছিলেন, প্রতিটি ডলার গুণতে আমাদের দুই দিন লাগবে।'

শুনানিতে তিনি উদ্ধার হওয়া ৫৪ লাখ ৬০ হাজার ডলার অবিলম্বে বাংলাদেশকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।

এরপর বুধবার জন গোমেজ জানান, বুধবার পর্যন্ত তিনি উদ্ধার হওয়া ৫৪ লাখ ৬০ হাজার ডলার বুঝে পাননি। উদ্ধার হওয়া এই অর্থ একই দিনে বাংলাদেশ সরকারের কাছে ফেরত পাঠানোর আশা করছিলেন তিনি।

তিনি র‌্যাপলারকে বলেন, 'অর্থ ফেরত পেতে কিছু সময় লাগবে। তবে প্রক্রিয়াটিকে দ্রুততর করতে আমরা এএমএলসির সঙ্গে কাজ করছি।'

এছাড়া উদ্ধার হওয়া অর্থের সর্বশেষ অবস্থা জানতে তার প্রতিনিধিরা এএমএলসি সঙ্গে বৈঠক করবে বলেও জানান বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত।

গত ফেব্রুয়ারিতে অজ্ঞাত পরিচয় হ্যাকাররা বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০০ কোটি ডলার চুরির চেষ্টা করলেও ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি করতে সক্ষম হয়। এর মধ্যে শ্রীলংকায় ২ কোটি ডলার এবং ফিলিপাইনে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার পাচার করা হয়। তবে শ্রীলংকা ইতিমধ্যে সেখানে পাচার হওয়া দুই কোটি ডলার ফেরত দিয়েছে।

ফিলিপাইনের আইন অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত কিম অংয়ের ফেরত দেওয়া ৫৪ লাখ ৩০ হাজার ডলার বাংলাদেশকে ফিরিয়ে দিতে তার লিখিত অনুমতি লাগবে। আর কিম অংয়ের অনুমতি ছাড়া এই অর্থ বাংলাদেশকে ফেরত পেতে ফিলিপাইনের আদালতে ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করতে হবে। জুলিয়া ব্যাকে-অ্যাবাদ জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে তারা এ সংক্রান্ত মামলা করবেন।

এর আগে সিনেটের চতুর্থ শুনানিতে অং বলেন, যে অর্থ তিনি ফেরত দিয়েছে তা অবিলম্বে বাংলাদেশ সরকারকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য তিনি রাজি ছিলেন। তবে তার আইনজীবী ভিন্ন উপদেশ দিয়েছেন। আইনজীবী বলেছেন, এক্ষেত্রে তাদের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ব্যাকে-অ্যাবাদ বলেন, 'এখন মনে হচ্ছে কিম অং শুধু এএমএলসির কাছে অর্থ ফেরত দিতে চাচ্ছে। তবে আগে আমাদের মনে হয়েছিল, তিনি বাংলাদেশের কাছে সরাসরি অর্থ ফিরিয়ে দিতে ইচ্ছুক।'

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ লোপাট করে ফিলিপাইনে পাচার করা ৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের মধ্যে এখন পর্যন্ত দুই দফায় ৫৪ লাখ ৬০ হাজার ডলার এএমএলসি কাছে ফেরত দিয়েছেন কিম অং।

এর মধ্যে গত ৩১ মার্চ প্রথম দফায় ৪৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার এবং ৪ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় ৮ লাখ ৩০ হাজার ডলার ফেরত দেন।

এছাড়া মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ফিলিপাইনের সিনেটের চতুর্থ শুনানিতে আরও ৯৭ লাখ ৩০ হাজার ডলার ফিরিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন কিম অং।

ওএফ