ইরানে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী জুন্দুল্লাহ'র ২০০৭ সালে যেভয়াবহ বোমা হামলা চালিয়েছিল তা আগে থেকে জানতো সিআইএ।কিন্তুআগাম খবর পাওয়া সত্ত্বে তেহরানকে এ সংক্রান্ত কোনো হুঁশিয়ারি দেয়নি মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। মার্কিন দৈনিক নিউ ইয়র্ক টাইমস এ খবর দিয়েছে।
২০০৭ সালে ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে গাড়ি বোমা হামলা চালিয়েছিলতা ছিল জুন্দুল্লাহ।এ হামলায় ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)’র অন্তত ১১ সদস্য মারা যায়।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, সিআইএ'র ফাইল ঘেঁটে দেখার সময় এ বোমা হামলার বিষয়ে আগাম অবহিত হয়েছিলেন এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা। তার নজরে পড়ে একটি প্রতিবেদন যেখানে বলা হয়েছে, ইরানে বড় ধরণের ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে। থমাস ম্যাকহেল নামের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা নিউ ইয়র্ক এবং নিউ জার্সির বন্দর কর্তৃপক্ষের হয়ে কাজ করতেন। এ ছাড়া, এফবিআই'র সন্ত্রাস বিরোধী টাস্ক ফোর্সের সঙ্গে কাজ করতেন তিনি।
ম্যাকহেল এ সংক্রান্ত প্রাথমিক প্রতিবেদন দিয়েছিলেন। পরে জুন্দুল্লাহর নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য তিনি আফগানিস্তান ও পাকিস্তান সফর করেন।
এফবিআই এবং সিআইএ'র যৌথ নজরদারিতে জুন্দুল্লাহর ইনফর্মাররা কাজ করেছে বলেওজানিয়েছে দৈনিকটি।
এদিকে এ সংক্রান্ত ফাইল হাতে আসার পর উদ্বেগের মধ্যে পড়েন সিআইএ'র এ কর্মকর্তা। উদ্বেগের মাত্রা বাড়তে থাকায় এ বিষয়ে সিআইএ'র আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি।
তারা বলেন, আগাম সন্ত্রাসী হামলার বিষয়ে ইনফর্মারের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করার বিষয়টি প্রকাশ হয়ে গেলে এ জাতীয় হামলার প্রতি আমেরিকা মৌন সমর্থন দিচ্ছে বলে শেষ পর্যন্ত প্রতীয়মান হতে পারে।
কিন্তু এরপরও ইনফর্মারদের মাধ্যমে গুপ্ত তথ্য সংগ্রহ অব্যাহত রাখেন মার্কিন কর্মকর্তারা। এ জাতীয় তথ্য প্রথমে তারা এফবিআই'র মাধ্যমে সংগ্রহ করতেন এবং পরে তা পেন্টাগনের মাধ্যমে করতে থাকেন।
সন্ত্রাসী হামলায় ইরানের বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার পরও ইনফর্মারদের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ অব্যাহত রাখেন মার্কিন কর্মকর্তারা। কিন্তু জুন্দুল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক নেই বলে মার্কিন কর্মকর্তারা বারবারইদাবি করেছে পেন্টাগন।
ইরানি গোয়েন্দারা ২০১০ সালে জুন্দুল্লাহর নেতা আবদুল মালেক রিগিকে আটক করে। তার বিরুদ্ধে হত্যা, সশস্ত্র ডাকাতি, বোমা হামলাসহ ৭৯টি ফৌজদারি অপরাধ প্রমাণ হওয়ার পর একই বছরের জুনে তার প্রাণদণ্ড কার্যকর করা হয়।
ইআর





