মিয়ানমারের শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাষ্ট্র।

ওয়াশিংটন, ইয়াঙ্গুন ও ইউরোপভিত্তিক বেশ কিছু কূটনীতিক ও সরকারি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ কথা জানিয়েছে।

বার্তা সংস্থাটি বলছে, এ বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ওয়াশিংটন ও ব্রাসেলস এ জন্য আরও কিছু দিন সময় নিতে পারে। রাখাইনে সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সহায়তা বাড়ানোরও আলোচনা চলছে।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ, ইইউ, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, কানাডা ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনসহ বিশ্বের সোচ্চার মানুষ এই সহিংসতা বন্ধের বার বার দাবি জানালেও তাতে কর্ণপাত করেনি মিয়ানমার সেনাবাহিনী। তাই এ ধরনের সিদ্ধান্তের কথা ভাবছে পশ্চিমা বিশ্ব।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এক মাস আগেও মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি আলোচনায় ছিল না। এতেই প্রমাণিত হয়, মিয়ানমারে ঘরবাড়ি ছেড়ে রোহিঙ্গাদের পালিয়ে যাওয়া পশ্চিমা নীতিনির্ধারকদের কতোটা চাপে ফেলেছে।

তারা বলছেন, রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে সেনা সদস্যরা নির্বিচারে গুলি চালিয়ে মানুষ মারছে, ঘটছে ধর্ষণের ঘটনা। এই হত্যাযজ্ঞ ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির সমালোচনা চললেও অনেক পশ্চিমা কূটনীতিক দেশটিতে তার নেতৃত্বের বিকল্প দেখছেন না।

গত ২৫ সেপ্টেম্বরে রাখাইনে নতুন করে সেনাদের দমনপীড়ন শুরু হলে স্রোতের মতো রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে প্রবেশ করতে শুরু করে, যা বর্তমানে ৫ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।

ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আগামী ১৬ অক্টোবর মিয়ানমার নিয়ে আলোচনায় বসবেন। তবে এই বৈঠকেই নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ আসবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

নেদারল্যান্ডসের উন্নয়ন সহযোগিতা বিষয়ক মন্ত্রী উলা তুয়ারেস রয়টার্সকে বলেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ওপর আরও চাপ প্রয়োগের জন্য কোপেনহেগেন সংকটটি আলোচ্য সূচিতে আনার চেষ্টা চলছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দুইজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর কমান্ডার ইন চিফ মিন অং হ্লাইংসহ বেশ কয়েকজন জেনারেল এবং রোহিঙ্গা গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ থাকা রাখাইনের বৌদ্ধ নেতাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।

নিষেধাজ্ঞা আরোপ হলে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পদ জব্দ, যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ নিষিদ্ধ এবং এদের সঙ্গে আমেরিকানদের ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

জ্যেষ্ঠ ইউরোপিয়ান কূটনীতিক বলেন, পশ্চিমা দেশগুলো এই সংকট মোকাবেলা নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছে। তারা এ বিষয়ে একমত যে, সমস্যার মূলে সেনাবাহিনী এবং বিশেষত কমান্ডার ইন চিফ, যেকোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপে যাকে টার্গেট করা দরকার।

এমবি