বাংলাদেশের পর এবার তাবলিগ জামাতের সদরদপ্তর খ্যাত ভারতের দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজেও নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। তাবলিগের শীর্ষ মুরব্বি মাওলানা যোবায়েরুল হাসানের ইন্তেকালের পর এই স্থানটি কার দখলে যাবে সেটা নিয়েই মূলত এই বিরোধের সৃষ্টি। মাওলানা যোবায়েরুল হাসানের ছেলে মাওলানা যোহায়েরুল হাসান এবং মাওলানা সা’দ দুজনই এই স্থানটি দখল করতে চান। কার নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা পাবে তা নিয়ে তাদের অনুসারীরা মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন। যেকোনো সময় দিল্লি মারকাজে ঘটতে পারে অপ্রীতিকর ঘটনা।
ভারতের উর্দু দৈনিক হিন্দুস্তান এক্সপ্রেসের এক খবরে বলা হয়, তাবলিগের জামাত বের হওয়ার আগে মারকাজে থাকা শীর্ষ মুরব্বির সঙ্গে মুসাফাহা করে যাওয়ার রীতি চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। মাওলানা যোবায়েরুল হাসানের জীবদ্দশায় তাঁর সঙ্গেই সবাই মুসাফাহা করে দোয়া নিয়ে যেতেন। তার শেষ বয়সে মাঝে মাঝে মাওলানা সা’দও এ দায়িত্ব পালন করতেন। মাওলানা যোবায়েরুল হাসানের ইন্তেকালের পর মাওলানা সা’দ নিজেকে অনেকটা তার স্থলাভিষিক্ত মনে করতে থাকেন। তবে দিল্লি মারকাজে অনেকেই তাকে ততটা পছন্দ না করায় যোবায়েরুল হাসানের ছেলে যোহায়েরুল হাসানকে সামনে নিয়ে আসেন। মাওলানা সা’দের অনুসারীরা সেটা মেনে নিতে পারছেন বলেই দেখা দিয়েছে বিরোধ।
পত্রিকাটির খবরে বলা হয়, গত ১৮ আগস্ট একটি জামাত মাওলানা যোহায়েরুল হাসানের সঙ্গে মুসাফাহা করে। এতে ক্ষিপ্ত হন মাওলানা সা’দ। তিনি নির্দেশ জারি করেন, সবাইকে তার সঙ্গে মুসাফাহা করেই মারকাজ ত্যাগ করতে হবে। এ নিয়ে দুজনের অনুসারীরা মুখোমুখি অবস্থানে চলে যান। তবে মারকাজের মুরব্বিদের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত তা কোনো অপ্রীতিকর ঘটনায় গড়ায়নি। তবে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, যেকোনো সময় তা অপ্রীতিকর ঘটনায় রূপ নিতে পারে।
ওই ঘটনা প্রসঙ্গে জমিয়তুল উলামা সাহারানপুরের সভাপতি মুহাম্মদ নাসের জামী বলেন, নিজামুদ্দিন মারকাজ থেকে বেশ কিছুদিন ধরে যে ধরনের খবর আসছে তা খুবই দুঃখজনক। তাবলিগের দায়িত্বশীলদের উচিত অহমিকা, প্রচার এবং নাম ফোটানোর ঊর্ধ্বে উঠে ইখলাসের সঙ্গে আকাবিরের দেখানো পথে চলা। তাবলিগ জামাত একক কোনো ব্যক্তির নয়, এটা মুসলিম বিশ্বের মুসলমানদের আমানত এবং তাদের হৃদয়ের স্পন্দন।
খবরে বলা হয়, শীর্ষ নেতৃত্বের এই বিরোধের মীমাংসা করতে তাবলিগের মুরব্বিরা জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা আরশাদ মাদানি, দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামিম মাওলানা আবুল কাসেম নোমানি, দিল্লি জামে মসজিদের শাহী ইমাম সাইয়েদ আহমদ বুখারীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। প্রসঙ্গত, তাবলিগ জামাত সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক একটি ধর্মীয় প্লাটফর্ম। ইসলামের দাওয়াত নিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে যাওয়াই তাদের কাজ। এতে নেতৃত্ব নিয়ে বিভাজনের রেওয়াজ না থাকলেও কয়েক বছর ধরে কাকরাইল মারকাজে তা প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মুশফিক আহমাদ এবং কাকরাইলের অন্যতম মুরব্বি ওয়াসিফুর রহমানের মধ্যে এই বিরোধ সৃষ্টি হয়। এমনকি তা মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচারিত হয়। পরস্পরের বিরুদ্ধে লিফলেট বিতরণকালে পুলিশি হস্তক্ষেপেরও প্রয়োজন পড়ে। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে কাকরাইল মারকাজে পুলিশ পর্যন্ত মোতায়েন করতে হয়েছে। তবে সম্প্রতি মুশফিক আহমাদ ইন্তেকাল করায় চলমান বিরোধ কিছুটা স্থিমিত হতে পারে বলে মনে করছেন তাবলিগ সংশ্লিষ্টরা।
এএইচ





