ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সর্বাত্মক চাপে রেখে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তিতে রাজি করাতে চায় বাংলাদেশ।
আজ সোমবার টাইমস অব ইন্ডিয়া এবং কোলকাতা টুয়ান্টিফোর অনলাইনে এক প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করেছে।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর সংশ্লিষ্টতার সূত্র ধরে ওই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সর্বাত্মক চাপে
রাখার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ সরকার। এতে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তির বিরোধিতাকারী মমতাকে চুক্তিতে রাজি করানোটা সহজ হবে।
প্রতিবেদনে দেয়া তথ্যমতে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যখন প্রতিবেশী বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের নীতি গ্রহণ করেছেন, তখন সে দেশের মাটি বাংলাদেশের জঙ্গিরা তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহার করছে। এটি প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ ঘটনা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চলাচলকারী মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রা সংখ্যা আরো বাড়ানোর ও বাংলাদেশ হয়ে কলকাতা থেকে ত্রিপুরায় বাস চলাচলের প্রস্তারের বিষয় নিয়ে আলোচনা থামিয়ে দিতে পারে। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এই সড়কটি হলে কলকাতা-ত্রিপুরা পথে পণ্যের পরিবহন খরচ অনেক কমবে।
অন্যদিকে কোলকাতা টুয়ান্টিফোরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জামায়াতে ইসলামীতে যোগ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর চাপ বাড়িয়ে তিস্তার পানির ভাগ চাইবে বাংলাদেশ। যার আগাগোড়া বিরোধী মুখ্যমন্ত্রী। তৃণমূলের রাজ্যসভার সংসদ সদস্য আহমেদ হাসানের মদতেই তিস্তা পানি চুক্তিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাধা দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এবার সেই ইস্যুতেই মুখ্যমন্ত্রীকে চাপে রেখে তিস্তার পানি ব্যবহার করতে চাইবে বাংলাদেশ।
প্রতিবেদনে দেয়া তথ্যমতে, ভারতের মাটিতে বাংলাদেশী নিষিদ্ধ কট্টরপন্থীদের আশ্রয় দেয়ার অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ। বিশেষত, যখন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পররাষ্ট্রনীতিই চাইছে বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক ভালো করতে। এ রাজ্যের সাথে জামায়াত যোগ থাকলে কলকাতা থেকে বাংলাদেশ হয়ে প্রস্তাবিত ত্রিপুরা পর্যন্ত বাস পরিসেবা ধাক্কা খাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ, সেক্ষেত্রে পিছিয়ে আসবে বাংলাদেশ। বাস পরিসেবা চালু হলে বাণিজ্যিক লাভের সুযোগ তৈরি হবে ভারতের সামনে।
এএইচ





