আফ্রিকার পর চীনের দৃষ্টি এবার দক্ষিণ আমেরিকায় পড়েছে। দক্ষিণ আমেরিকার ল্যাটিন দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার ক্ষেত্রে ব্যাপক জোর দিচ্ছে চীন।
আর এরই অংশ হিসেবে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াঙ ই রোববার দক্ষিণ আমেরিকা সফর শুরু করেছেন। তবে, দক্ষিণ আমেরিকার চার দেশ সফরের প্রথমেই তিনি কিউবা গেলেন।
চলতি বছরের শেষের দিকে চীনা প্রেসিডেন্ট জি জিনপিংয়ের কিউবা সফরের পথ প্রশস্ত করতেই ওয়াঙ হাভানায় এলেন।
তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট জি জিনপিংয়ের আসন্ন কিউবা সফর সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আমরা কাজ করতে যাচ্ছি। উল্লেখ্য ভেনিজুয়েলার পর চীন কিউবার দ্বিতীয় অর্থনৈতিক অংশীদার।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিউবা থেকে এরপর ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস যান।
দক্ষিণ আমেরিকার প্রায় সবগুলো দেশের সঙ্গেই চীনের প্রতিদ্বন্দ্বী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৈরী সম্পর্ক। আর এই সুবিধাটিই কাজে লাগাতে চায় চীন। চীনের মনোভাবে এটাই বুঝা যাচ্ছে।
বিশ্বের নব্য অর্থনৈতিক জায়ান্ট চীন সারাবিশ্বে তার প্রভাব বিস্তারে খুবই আগ্রহী। আর এক্ষেত্রে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে, এখানে দুই দেশের নীতিমালায় একটু পার্থক্য রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র যেখানে সামরিক ও অর্থনৈতিক দুই ক্ষেত্রেই প্রভাব বিস্তারে তৎপর; চীন সেখানে শুধুমাত্র অর্থনীতি নিয়েই এগুচ্ছে। সামরিক দিকে এখনই নজর দিচ্ছে না তারা।
আর অর্থের জাল বিশ্বজুড়ে ঠিকই ছড়িয়ে দিচ্ছে চীন; খুবই ক্ষিপ্রগতিতে। আর সে লক্ষ্যেই এশিয়া তো বটেই, অন্য মহাদেশগুলোতেও এগিয়ে যাচ্ছে চীন। ওই সব মহাদেশে তারা নিয়ে যাচ্ছে বিপুল বিনিয়োগ, বাণিজ্যিক সহায়তা এবং আরো বিভিন্ন সহযোগিতার হাত। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ শক্তি। আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশে ইতোমধ্যে বিশাল বিনিয়োগ করেছে চীন। ইউরোপ, আমেরিকাতেও রয়েছে চীনের বিশাল বাজার। এবার দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে মাও সেতুংয়ের চীন।
দক্ষিণ আমেরিকার ক্ষেত্রে চীন একটি বাড়তি সুবিধা পাবে। সেটি হচ্ছে মহাদেশটির বেশ কটি দেশেই রয়েছে সমাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা। যেসব দেশে সমাজতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় নেই, সেখানেও সমাজতান্ত্রিক ভাবধারা বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছে। আর চীনের সাথে এখানেই বেশ মিল। চীন তার সমাজতান্ত্রিক ভাবধারাকে কাজে লাগিয়ে তাদের খুব কাছে পৌঁছাতে পারবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা আর ক্যারিবিয়ান দ্বীপরাষ্ট্র কিউবার সঙ্গে চীনের সম্পর্ক এমনিতেই বেশ ভালো। কিউবার সঙ্গে চীনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বেশ জোরদার।
দক্ষিণ আমেরিকার সাথে বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে তেল। দক্ষিণ আমেরিকায় রয়েছে বিশ্বের মোট তেলের মজুদের এক-পঞ্চমাংশ। এই তেলের বাজারটি মোটামুটি আমেরিকার ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। আর এই সুযোগটিকে কাজে লাগাতে চায় চীন। (সিনহুয়া ও বিবিসি অবলম্বনে)
[b]ঢাকা, ২১ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি) //এমএ
[/b]
আন্তর্জাতিক
আমেরিকাকে টেক্কা দিতে এবার ল্যাটিন আমেরিকায় চীন
আফ্রিকার পর চীনের দৃষ্টি এবার দক্ষিণ আমেরিকায় পড়েছে। দক্ষিণ আমেরিকার ল্যাটিন দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার ক্ষেত্রে ব্যাপক জোর দিচ্ছে চীন। আর এরই অংশ হিসেবে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াঙ ই রোববার দক্ষিণ আমেরিকা সফর শুরু করেছেন।





