প্রেসিডেন্টের আবদুল্লা ইয়ামিনের জরুরী অবস্থা ঘোষণার পর মালদ্বীপের চলমান পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন প্রকাশ করে আইনের শাসন ও সংবিধান অনুযায়ী দেশ পরিচালনার আহবান জানিয়েছে জাতিসংঘের মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস।
মালদ্বীপে ১৫ দিনের জরুরী অবস্থা ঘোষণার একদিন পরই এই বিবৃতি দেন জাতিসংঘের মহাসচিব। দেশে বিরাজমান পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট আবদুল্লা ইয়ামিন জরুরী অবস্থা ঘোষণা করে যেখানে দেশের সেনাবাহিনী ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দেয়া হয়।
মালদ্বীপে সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। যে রায়ে মালদ্বীপে ৯ জন বিরোধী দলীয় নেতাকে মুক্তি দেয় আদালত। রায় সম্পর্কে সরকারের দাবি এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও ত্রুটির্পূর্ণ।
জরুরী অবস্থা ঘোষণা পর সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিসহ দুই জন বিচারককে গ্রেফতার করা হয়। পাশাপাশি আরও ৫৪ জন আইনজীবিকে বরখাস্ত করা হয়। এদিকে বিরোধী দলীয় নেতা মুহাম্মদ নাশিদ দেশের পরিস্থিতির জন্য ভারতের সামরিক হস্তক্ষেপ আহবান করে। যার ফলে পরিস্থিতি সহিংসতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানায় স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম।
এ বিষয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব তার বিবৃতিতে বলেন, মালদ্বীপের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য অবশ্যই আইনের শাসন ও সাংবিধানিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। বিবৃতিতে তিনি প্রেসিডেন্ট আবদুল্লা ইয়ামিনকে দেশে জরুরী অবস্থা উঠিয়ে নেয়া সহ বিচারকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেয়ার তাগিদ দেন।
এ বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের পাশাপাশি জাতিসংঘের বিদেশ বিষয়ক মুখপাত্র মিরোস্লেভ জেনকা মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে ফোনে কথা বলেন। ফোনে জেনকা বলেন, 'মালদ্বীপের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ সত্যিই চিন্তিত। বিশেষ করে প্রধান বিচারপতিকে গ্রেফতার করাটা দেশের সরকার ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।'
তিনি মালদ্বীপের প্রধান বিচারপতিসহ আটক করা সকল আইনজীবিকে অতি শীঘ্রই মুক্তি দেয়ার আহবান জানান। প্রত্যুত্তরে দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য সকল প্রকার প্রদক্ষেপ নিচ্ছে মালদ্বীপ সরকার বলে জানায় পররস্ট্রমন্ত্রী।
জেড





