ভারতের অনুসন্ধানী নিউজ পোর্টাল কোবরাপোস্ট তাদের চালানো একটি ‘স্টিং অপারেশনের’ ভিডিও অনলাইনে প্রকাশ করেছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, দেশের অন্তত ২৫টি প্রথম সারির মিডিয়া গোষ্ঠী কোটি কোটি টাকা সমমূল্যের বিজ্ঞাপনের বিনিময়ে তথাকথিত হিন্দুত্ব এজেন্ডার প্রসারে ও বিজেপিকে ক্ষমতায় রাখার চেষ্টাতে সামিল হতে রাজি হয়ে গিয়েছিল। স্বতন্ত্রভাবে ওই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ভিডিওটি নিয়ে বেশ বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। নিউজ ওয়েবসাইট দ্য ওয়ার এ নিয়ে বেশ কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। অনেকের মতে, ভারতে বেশির ভাগ মিডিয়া হাউসকে যে কেনা যায়, এ ঘটনা তা প্রমাণ করে দিয়েছে। তবে টাইমস গ্রুপের মতো অভিযুক্ত অনেক মিডিয়া গোষ্ঠীই আবার দাবি করছে এই ভিডিওটি মিথ্যায় ভরা।
কোবরাপোস্ট জানাচ্ছে, তাদের সাংবাদিক পুষ্প শর্মা একটি হিন্দু ধনী ধর্মীয় আশ্রমের প্রধান সেজে বিভিন্ন মিডিয়া গোষ্ঠীর কাছে একটি লোভনীয় প্রস্তাব নিয়ে গিয়েছিলেন।প্রস্তাবটি ছিল, বিজেপিকে ২০১৯ সালে ক্ষমতায় রাখার লক্ষ্য নিয়ে ওই পত্রিকা বা চ্যানেলগুলোতে প্রথমে শ্রীকৃষ্ণ ও ভাগবত গীতার প্রচার করতে হবে।
তারপর বিজেপির প্রতিপক্ষ রাহুল গান্ধী-মায়াবতী-অখিলেশ যাদবের মতো নেতাদের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাতে হবে । এছাড়া ভোটের ঠিক আগে চলবে খোলাখুলি হিন্দুত্বর প্রচার।
কাঠগড়ায় টাইমস অব ইন্ডিয়া গ্রুপ। তবে তারা বলছে কোবরা পোস্টের ভিডিও ভুলে ভরা।
ওই সাংবাদিক ‘আচার্য অটল’ নামের এক ব্যক্তি সেজে এই অভিযান চালান। তিনি মোট ২৭ টি মিডিয়া হাউসের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করেন। ভিডিওগুলো বলছে, ২৭টির মধ্যে ২৫টি মিডিয়া হাউসই কোটি কোটি টাকার ওই প্রস্তাব লুফে নেয়।
২৭টি মিডিয়া হাউসের মধ্যে মাত্র দু’টি পত্রিকা কোবরাপোস্টের পাতা ফাঁদে পা দেয়নি এবং সরাসরি তাদের প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছিল । পত্রিকা দু’টি হচ্ছে দৈনিক বর্তমান ও সংবাদ।
কোবরাপোস্টের সাংবাদিককে যাদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা গেছে, তাদের মধ্যে আছেন ভারতের বৃহত্তম মিডিয়া গোষ্ঠী টাইমস গ্রুপের অন্যতম মালিক তথা ব্যবস্থাপনা পরিচালক ভিনিত জৈনও।
ভিডিওগুলোতে দেখা যাচ্ছে, টাইমস গ্রুপ পাঁচশো কোটি রুপির বিনিময়ে আচার্য অটলের দেওয়া এজেন্ডা বাস্তবায়নে রাজি, যার বেশিটাই আবার নগদ বা কালো টাকাতে নিতেও তাদের আপত্তি নেই। টাইমস গ্রুপ অবশ্য দাবি করেছে ওই ভিডিও মিথ্যায় ভরা ও বিকৃত - ও তারা ওরকম কোনও চুক্তিতেও সই করেনি।
তবে 'দ্য ওয়ার' পোর্টালের কর্ণধার ও দ্য হিন্দুর সাবেক সম্পাদক সিদ্ধার্থ বরদারাজন এই সাফাইতে বিশ্বাস করছেন না।বরদারাজন বলছেন, ভারতে অধিকাংশ মিডিয়া হাউসের কাছে মুনাফাই যে শেষ কথা, এই স্টিং অপারেশন সেটা প্রমাণ করে দিয়েছে। যে এজেন্ডা দেশকে ভাগ করে দেবে, ভোটের আগে দেশকে পোলারাইজ করবে- সেটা জেনেবুঝেও লাভের জন্য তা রূপায়ন করতে তাদের এতটুকুও দ্বিধা হয় না।
ভিডিওতে অভিযুক্ত মিডিয়া গোষ্ঠীগুলির মধ্যে একটি আবার দিল্লি হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ নিয়ে তাদের নিয়ে তৈরি করা ভিডিওটির প্রচার আপাতত আটকাতে পেরেছে। ভারতের বিরোধী দলগুলো কোবরাপোস্টের এই স্টিং অপারেশন নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া থেকে এখনও বিরত থেকেছে। বিবিসি বাংলা।
জেড





