আসন ভাগাভাগি নিয়ে টানাপড়েনের জের ধরে অবশেষে ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যে শিবসেনা এবং বিজেপি জোটের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের ইতি ঘটেছে। ‘হিন্দুত্ব’নিয়ে এই জোট টিকে থাকবে বলে দু'টি দলের পক্ষ থেকে বারবার ঘোষণা করা হলেও বাস্তবে তা আর হয়ে উঠল না।
অযোধ্যা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাবরি মসজিদ ধ্বংস পর্যন্ত বিজেপি’র সবচেয়ে কাছের জোটসঙ্গী ছিল শিবসেনা। কেন্দ্রের বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের পক্ষে এটি বেশ খারাপ খবরই। এই নিয়ে কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার চার মাসের মধ্যেই দু’টি শরিক দল বিজেপি’র সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করল। আগেই ‘হরিয়ানা বিকাশ পার্টি’বেরিয়ে গেছে, এবার চলে গেল এতদিনের সম্পর্ক থাকা শিবসেনা পার্টি।
বেশ কিছুদিন ধরে বিজেপি এবং শিবসেনার মধ্যে বাকযুদ্ধ জারি ছিল। কোনো দলই নিজ নিজ অবস্থান থেকে সরতে রাজি না হওয়ায় অবশেষে এই সম্পর্ক ছিন্ন হয়। এর আগে পরিস্থিতি এতটাই চরমে ওঠে যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও ছেড়ে কথা বলেননি শিবসেনা নেতারা। কার্যত সরাসরি নরেন্দ্র মোদির 'পুরোনো ক্ষতে' আঘাত করেন শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে।
তিনি বলেছিলেন, ‘২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গার পর সবাই যখন মোদির অপসারণ চেয়েছিল, তখন একমাত্র শিবসেনা তার পাশে দাঁড়িয়েছিল। প্রয়াত শিবসেনা প্রধান বালসাহেব ঠাকরে সেই সময় লালকৃষ্ণ আদবানিকে বলেছিলেন, মোদিকে রেখে দেয়া উচিত। কারণ তিনি ‘হিন্দুত্ব’ নিয়ে লড়াই করেছেন।’ এভাবে অতীতের স্পর্শকাতর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিজেপি নেতা তথা দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চরম অস্বস্তিতে ফেলে দেন শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে।
উল্লেখ্য, মহারাষ্ট্রে আসন সমঝোতা নিয়ে জট ছাড়াতে গত ২১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দিল্লিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক বসলেও কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেন নি তারা।
এদিকে শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে আসন ভাগাভাগি নিয়ে রীতিমত ‘যুদ্ধংদেহি’মনোভাব নিয়ে স্পষ্ট বলেছিলেন, ‘আমি বিজেপিকে ১১৯টি আসন ছাড়তে রাজি আছি। এর বেশি ওদের দেয়া সম্ভব নয়। একথা সত্যি, আসন রফা নিয়ে একটা টাগ অফ ওয়ার চলছে।’মহারাষ্ট্রে মোট ২৮৮টি আসনের মধ্যে আগে বিজেপি’র প্রস্তাব ছিল- দুটি দলই ১৩৫টি করে আসনে লড়বে, ১৮টি আসন জোট সঙ্গীদের দেয়া হবে। শিবসেনা এই প্রস্তাব খারিজ করে জানায়, তারা ১৫০টি আসনে লড়বে।
১৮ সেপ্টেম্বর শিবসেনাকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চরম সময়সীমা বেঁধে দেয় বিজেপি, নইলে একাই লড়ার হুমকি দেয় তারা। শিবসেনা প্রধান ২১ সেপ্টেম্বরই সাফ ঘোষণা করেন, ১১৯টির বেশি আসন বিজেপিকে দেয়া হবে না। বিজেপির পাল্টা দাবি ছিল ১৩০টি আসন না পেলে কোনো আলোচনা নয়।
পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কেন্দ্রে শিবসেনার মন্ত্রী অনন্ত গীতে'কে এবার ইস্তফা দিতে হবে। মুম্বাই পুরসভাতেও বিজেপি’র সমর্থনে শিবসেনা ক্ষমতায় রয়েছে। সেখানেও এবার দেখা দেবে সংকট। সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ায় বিজেপি যদি এখান থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয় তাহলে ভেঙে যাবে পুরবোর্ডও।
অন্যদিকে গৈরিক শিবিরের ভোট ভাগ হয়ে গেলে লাভবান হতে পারে কংগ্রেস। যদিও তাদেরও ১৫ বছরের জোট সঙ্গী এনসিপি’র সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছে। কার্যত বিজেপি, শিবসেনা, কংগ্রেস এবং এন সি পি- এই চতুর্মুখী লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কোন দল শেষ হাসি হাসে সেটিই এখন দেখার বিষয়।
ঢাকা, ২৬ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএমএ





