লিবিয়ায় যুদ্ধবিরতি আহ্বানের একটি প্রস্তাব পাস করেছে জাতিসংঘ। বুধবার সংস্থার নিরাপত্তা পরিষদের ১৪টি দেশ এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়। তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকেই সহিংসতা আর বিভক্তিতে জর্জরিত হয়ে আছে লিবিয়া। গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে দেশটিতে সক্রিয় রয়েছে দুটি সরকার। এরমধ্যে রাজধানী ত্রিপোলি থেকে পরিচালিত সরকারকে সমর্থন দিয়েছে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বড় অংশ। তুরস্কের সমর্থনও এই সরকারের প্রতি। আর দেশটির পূর্বাঞ্চল থেকে পরিচালিত জেনারেল খলিফা হাফতারের নেতৃত্বাধীন অপর সরকারটিকে সমর্থন দিচ্ছে মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, সৌদি আরব ও ফ্রান্স। রাজধানী ত্রিপোলির দখল নিতে গত বছরের এপ্রিল থেকে অভিযান জোরালো করেছে হাফতার বাহিনী।
গত ১৯ জানুয়ারি বার্লিনে একদিনের শান্তি সম্মেলন আয়োজন করেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা ম্যার্কেল। ওই সম্মেলনে তুরস্ক, ফ্রান্সসহ ১২টি আঞ্চলিক দেশ লিবিয়ায় বিদেশি হস্তক্ষেপ বন্ধের বিষয়ে একমত হয়। এছাড়া জাতিসংঘের নেতৃত্বে লিবিয়ার ঐক্য প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়েও সম্মতি আসে ওই সম্মেলনে।
সর্বশেষ বুধবার নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আনে যুক্তরাজ্য ও জার্মানি। ১৫ সদস্যের মধ্যে শুধু রাশিয়া ভোটদান থেকে বিরত ছিলো। বাকি ১৪টি দেশই এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়। জাতিসংঘে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া বলেন, তাদের কাছে প্রস্তাবটি স্পষ্ট নয়। লিবিয়ায় গৃহযুদ্ধে সবপক্ষ এখনও অস্ত্র নামাতে প্রস্তুত নয়।
তিন পৃষ্ঠার ওই খসড়ায় জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্থনিও গুতেরেস কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষে বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিলিপি গফিন বলেন, এই নথিতের আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে শক্তিশালী বার্তা দেওয়া হলো যে লিবিয়ায় সংঘাত থামানো জরুরি।
এএইচ





