আফগানিস্তানে ভারত এক ডিভিশন সৈন্য পাঠানোর প্রচেষ্টা চালানোর বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশ জোরদারভাবে আলোচনা শুরু হয়েছে। কাবুলে সর্বশেষ বিম্ফোরণের ঘটনাটির সাথে এর সম্পর্ক থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই হামলার সাথে জড়িত থাকার ব্যাপারে তালেবানরা দৃঢ়ভাবে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। কাবুলের সুরক্ষিত কূটনৈতিক এলাকায় এই হামলার লক্ষ্য মনে করা হচ্ছে সেখানকার পাশ্চাত্য কূটনৈতিক মিশনকে সন্ত্রস্ত করা যাতে তারা কাবুলে আরো সৈন্য পাঠানোর পরিকল্পনার ব্যাপারে নিজ নিজ সরকারের কাছে সুপারিশ পেশ করে।

এই হামলার সাথে সাথেই আফগানিস্তানের কিছু সরকারি কর্মকর্তা এবং ভারতীয় লবি সমস্বরে এ জন্য কোন প্রমাণ ছাড়াই পাকিস্তানকে দায়ি করা শুরু করে। এ জন্য ইসলামাবাদকে দায়ী করে একটি প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ বন্ধ করে দেয় আফগানিস্তানের প্রশাসন।

এ ব্যাপারে পাকিস্তান অবজারভারে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, ভারতীয় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল আফগানিস্তানে সর্বশেষ সন্ত্রাসী হামলার যে তরঙ্গ সৃষ্টি হয়েছে তার উপর নজরদারির জন্য আফগানিস্তান সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করছেন এবং আফগান সরকারের নেতাদের রক্ষার জন্য ভারতীয় সৈন্য পাঠাতে একটি সরকারি প্রস্তাব তৈরি করার জন্য তার প্রতিপক্ষকে পরামর্শ দিয়েছেন।

একটি নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, কয়েকদিন আগে রাশিয়ায় আফগান জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হানিফ আতমারের সাথে অজিত দোভাল সাক্ষাত করেছেন। দোভাল আফগান সরকারকে ভারতীয় সেনা পাঠানোর জন্য ভারত সরকারের প্রতি আনুষ্ঠানিক আহ্বান জানাতে বলেছেন কাবুল প্রশাসনকে।

কাবুল থেকে আসা বিভিন্ন রিপোর্টে জানা যাচ্ছে, আফগানিস্তানের ভারত লবি তার নিজের লাভ এবং উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য কাবুলের বিস্ফোরণকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। পাকিস্তানিরাও কাবুলের বিস্ফোরণের শিকার হওয়া সত্ত্বেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রচার-প্রচারণা আকস্মিকভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে।

আফগান তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ কাবুল হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার ব্যাপারটি দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন যে, তালিবান নেতৃত্ব কোনও বেসামরিক বা বেসামরিক সুবিধাদিকে লক্ষ্যবস্তু করার নির্দেশ দেয় না। আফগান তালেবানরা বলেছে, আফগানিস্তানে আরও বিদেশি সৈন্য পাঠানোর প্রেক্ষিত তৈরির জন্য এটি একটি ষড়যন্ত্র হতে পারে এটি।

পাকিস্তান এই হামলার কঠোরভাবে নিন্দা করা সত্ত্বেও সাবেক আফগান গোয়েন্দা প্রধান সালেহ আমরুল্লাসহ এক শ্রেণীর আফগান নেতা এবং ভারতীয় লবি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রচার অভিযান শুরু করেছে। বুধবারের কাবুল আক্রমণের মাত্র দুই দিন আগে ২৮ শে মে, ২০১৭ তারিখে আফগানিস্তানের পাজভুক সংবাদ সংস্থা রিপোর্ট করে যে ভারত “জাতিসংঘ মিশন”এর অধীনে আফগানিস্তানে তার সৈন্য পাঠাতে পারে। পাজভুকের ওয়াশিংটন থেকে পাঠানো এই রিপোর্টটি আউটলুক আফগানিস্তানে প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে “১৮ ই মে, ২০১৭ তারিখে ওয়াশিংটনের দর্শকদের উদ্দেশ্যে একজন বিশিষ্ট ভারতীয় প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দেয়া হয়েছে। তিনি বলেছিলেন,  নয়া দিল্লি সম্ভবত ভারতীয় সৈন্যদের একটি ডিভিশন যার সৈন্য সংখ্যা ১৫ হাজারের কাছাকাছি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের অধীনে আফগানিস্তানে পাঠাতে পারে। ”

“যদি আমন্ত্রণ জানানো হয়, যদি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী সেখানে থাকে …তবে আমার মনে হয় যে সম্ভবত ভারত এক ডিভিশন সৈন্য  লজিস্টিকসহ পাঠানোর বিষয় সেখানে পাকিস্তানের সংবেদনশীলতা থাকা সত্ত্বেও বিবেচনা করতে পারে”। এই বিশেষজ্ঞ হলেন ইন্সটিটিউট ফর ডিফেন্স স্টাডিজ এন্ড এনালাইসিসের ব্রিগেডিয়ার গুরমিথ কানওয়াল। তিনি ওয়াশিংটনের উড্র উইলসন ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর স্কলার্সের সদস্যদের উদ্দেশ্যে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে একথা বলেন।

 

গুরুমিট কানওয়াল ভারতীয় সামরিক এস্টাবলিশমেন্টের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার জন্য পরিচিত। তিনি ওয়াশিংটন ডিসি-তে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে সাক্ষাত করেন যেন আফগানিস্তানে ভারতকে একটি অফিসিয়াল ভূমিকা বরাদ্দ করার বিষয় ওয়াশিংটন অনুমোদন করে।

আফগানিস্তানে ভারতীয় সৈন্য পাঠানোর এই পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্র এবং তার সহযোগি ন্যাটো সদস্যরা কতটা অনুমোদন করবে সেটি বলা কঠিন। এই পরিকল্পনা এই অঞ্চলে শুধু পাকিস্তান নয় একই সাথে চীন রাশিয়া ও ইরানের স্বার্থেও প্রভাব ফেলতে পারে। আফগানিস্তানে ভারতীয় সৈন্য পাঠানোর পরিকল্পনার সাথে পাকিস্তানকে দুই দিক থেকে ঘিরে ফেরার একটি পরিকল্পনার বিষয় থাকতে পারে। ভারত সিপিইসি পরিকল্পনার বিরুদ্ধে তৎপরতা চালানোর যে কথা বলা হচ্ছে এটির সাথে তার একটি সম্পর্ক থাকতে পারে। স্বাভাবিকভাবে এর সাথে চীনের বিশাল বিনিয়োগের নিরাপত্তা এবং এই উচ্চাভিলাসি পরিকল্পনার ভবিষ্যতের বিষয় সম্পৃক্ত হয়ে পড়বে। সে সাথে এই অঞ্চলে ভয়ানক এক যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টির বড় ধরনের আশঙ্কাও এতে তৈরি হবে।(southasianmonitor)

এমবি