তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী আহমদ দাউদ ওগলুর হুমকি পাশ্চাত্য ও রাশিয়ার মধ্যে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। ওগলু বলেছেন, রাশিয়ার বিমান তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করলে গুলি করে নামানো হবে।

ন্যাটো সদস্য দেশ তুরস্ক সিরিয়া সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় একটি রহস্যজনক ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করার একদিন পর তুর্কি প্রধানমন্ত্রী এ হুমকি দিলেন। তুরস্কের রয়েছে ন্যাটো জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনী। এরপর থেকে সিরিয়ার লড়াই তুরস্ক ও এর বাইরে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে ওগলু যুদ্ধের হুমকি দিয়ে বক্তব্য প্রদান জোরদার করেছেন।

ইসলামি স্টেট (আইএস) বিরোধী যুদ্ধে জড়িত রাশিয়া, মার্কিন জঙ্গি বিমানগুলো তুরস্কের সীমান্তের কাছ দিয়ে উড়ে গিয়ে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে এখন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথমবারের মতো রাশিয়া ও ন্যাটোর বিমানগুলো সিরিয়ার আকাশে একই সাথে হামলা চালাচ্ছে। এতে স্নায়ুযুদ্ধকালের শত্রুর মধ্যে ছায়াযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার বিপদের সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবারের ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনায় রাশিয়ার সাথে ন্যাটোর যুদ্ধ বেধে যাওয়ার হুমকি দেখা দিয়েছে। তুরস্কের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তিনবার হুঁশিয়ারি জানানোর পরও ড্রোনটি তার গতি পরিবর্তন না করায় তারা সেটি গুলি করে ভূপাতিত করেছে। ড্রোনটি তুরস্কের সিরিয়াসংলগ্ন আকাশসীমার দুই মাইল ভেতরে ঢুকে পড়েছিল।

তুরস্কের সিনিয়র কর্মকর্তারা এখন বলছেন, কোনো সামরিক দিক থেকে যতই শক্তিশালী হোক না তার বিমান তাদের সীমানায় প্রবেশ করলে তারা তা ধ্বংস করতে ‘মোটেই দ্বিধা’ করবেন না। এতে আশঙ্কা করা হচ্ছে, এ ক্ষেত্রে তুরস্ক কোনো পার্থক্য করবে না, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি নিতে পারে দেশটি।

ওগলু বলেন, ‘আমরা গতকাল ড্রোন ভূপাতিত করেছি। যদি বিমানও হতো তাহলেও আমরা একই পদক্ষেপ নিতাম। আমাদের যুদ্ধের নীতি স্পষ্ট ও সবারই জানা। যেই আমাদের সীমান্ত লঙ্ঘন করবে তাকেই আমরা জুতসই জবাব দেবো।’

তুরস্ক ড্রোনটি কোন দেশের তা তদন্ত করছে, তবে একজন সিনিয়র মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, ড্রোনটি রাশিয়ার। মস্কোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অবশ্য তার এ দাবি অস্বীকার করেছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরো জানিয়েছে, তারা সিরিয়া সীমান্তের কাছে বিমান হামলার ক্ষেত্রে তুরস্কের সাথে যাতে বিপজ্জনক কোনো ঘটনা না ঘটে সে জন্য তারা আংকারার সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করেছে।

সিরিয়ায় বিমান হামলায় নিহত ৪৮

আলজাজিরা জানায়, সিরিয়ায় সন্দেহভাজন রাশিয়ান বিমান হামলায় একই পরিবারের ৪৮ জন নিহত হয়েছে। দেশটির হমস শহরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে মানবাধিকার কর্মীরা জানিয়েছেন।

সিরিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় হমস শহরের যেখানে ওই পরিবারটি আশ্রয় নিয়েছিল সেখানে বিমান থেকে রকেট হামলা চালানো হয়। এতে তারা নিহত হয়। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি। এর আগে শনিবার রাশিয়ার সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, সিরিয়ার হামা, ইদলিব, লাতাকিয়া, দামেস্ক এবং আলেপ্পো অঞ্চলে ইসলামিক স্টেটের অন্তত ৪৯টি ঘাঁটি ল্য করে হামলা চালিয়েছে।

উল্লেখ্য, সিরিয়া সরকারের সমর্থনে দেশটির সরকারবিরোধী তথা আইএস ও নুসরা ফ্রন্টের বিরুদ্ধে গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে বিমান হামলা শুরু করেছে রাশিয়া। দেশটির চার বছরের অধিক সময়ের গৃহযুদ্ধে আড়াই লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। দ্য এক্সপ্রেস ইউকে

ইআর