লন্ডনে জামায়াত-শিবিরের প্রতিরোধের মুখে আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীদের একাংশ ভয়ে পালিয়ে যায় এবং বাকীরা মানববন্ধন রেখে বসে পড়ে। পরে পুলিশের তারা নিরাপদে চলে যান।

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদন্ড বহাল রাখার প্রতিবাদে লন্ডনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে সেভ বাংলাদেশ নামে একটি মানবাধিকার সংগঠন।

যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে মৃত্যদণ্ডপ্রাপ্ত মীর কাসেম আলীর মামলার রায় নিয়ে লন্ডনে পক্ষে বিপক্ষে মুখোমুখি যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ ও জামায়াত ইসলাম সমর্থিত মানবাধিকার সংগঠন সেইভ বাংলাদেশ। একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডের চূড়ান্ত রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর করা আবেদন খারিজ করেছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

received_1170025793056315একই সময়ে দুই পক্ষের সমাবেশের কারণে মুখোমুখি অবস্থান নেয় সমাবেশে আসা নেতাকর্মীরা। আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা জয়বাংলা স্লোগানে প্রকম্পিত করে তুলেন আলতাব আলী পার্ক। পাকিস্তানের দালালারে পাকিস্তানে চলে যা, বঙ্গবন্ধুর বাংলায় রাজাকারের ঠাঁই নাই সহ নানা স্লোগান দেয়।

অন্য দিকে, সেইভ বাংলাদেশের পক্ষে জামায়াত বিএনপির নেতাকর্মীরা আল্লহু আকবর বলে সরকার বিরোধী নানা স্লোগান দেয় । সময় যতো গড়াতে থাকে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা ইসলাম ও মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে শ্লোগান দেয়াকে কেন্দ্র করে বেশি উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এই সময় বিএনপি কিছু নেতাকর্মী ইউকে বিএনপির সভাপতি এম এ মালিকের নেতৃত্বে সমাবেশে যোগদান করে। মাওলানা সাঈদীর ভক্ত অসংখ্য ব্রিটিশ বাংলাদেশী নাগরিক সমাবেশে অবস্থানের ফলে পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে পড়ে। আর সময়ে উত্তেজিত জামায়াত শিবির ও জনতার প্রতিরোধের মুখে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা পলায়ন ।
received_1170025833056311গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে পূর্ব লন্ডনের আলতাব আলী পার্কে এই প্রতিবাদ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিবাদ সমাবেশে ইউকে বিএনপির সভাপতি এম এ মালিক বলেন, বর্তমান অবৈধ সরকার জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী শক্তিকে দুর্বল করতেই আমাদের জোটের নেতাদের রাজনৈতিকভাবে হত্যা করছে। সরকারের সব ধরনের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমরা জোটবদ্ধ ভাবে আন্দোলন করছি ভবিষ্যতেও করবো। সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।

সেভ বাংলাদেশ সংগঠনের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম বলেন, তথাকথিত একটি অখ্যাত বইয়ের উপরে ভিত্তি করে কারো ফাঁসির রায় পৃথিবীর ইতিহাসে নজিরবিহীন। তথ্য প্রমাণ সাক্ষী বিহীন একজন মানুষের ফাঁসি হতে পারেনা। এটা একটি রাজনৈতিক হত্যাকা-। রাষ্ট্র এখন বিচার বিভাগের মাধ্যমে হত্যাকারীর ভূমিকায় অবনিত হয়েছে।

ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা বলেন, বাংলাদেশে ইসলামী নেতৃত্ব শূন্য করতেই একের পর এক সরকারের মিথ্যা মামলায় রায়ের মাধ্যমে জামায়াত নেতাদের হত্যা করা হচ্ছে। মীর কাশেম আলীর ফাঁসির ষড়যন্ত্র তারই ধারাবাহিকতা। মীর কাশেম আলী ন্যায়বিচার পায়নি। তাকে মিথ্যা বানোয়াট মামলায় হত্যার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। অবৈধ সরকারের অন্যায় রায় আমরা ঘৃণা ভরে প্রত্যাখ্যান করছি।

সমাবেশ চলাকালীন যুক্তরাজ্য বিএনপি সভাপতি এম এ মালেক ও জামাতের ইউরোপীয় মূখপাত্র ব্যারিষ্টার আবু বকর মোল্লার নেতৃত্বে মীর কাশেমের ফাঁসির রায় বিরোধী একটি গ্রুপ শহীদ মিনারস্থলে এসে ঢুকলে পুলিশ তাদের শহীদ মিনারের কাছে আসতে দেয়নি। আলতাব আলী পার্কের অন্যপাশে দাড়িয়ে এসময় তারা সরকার ও আইসিটি বিরোধী স্লোগান দেন।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, জামায়াতে ইসলামী ইউকের মুখপাত্র ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা, সেভ বাংলাদেশ সংগঠনের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম ব্যারিস্টার বদরে আলম দিদার, মুফতি শাহ সদর উদ্দিন, দিদারুল আলম মজুমদার, দৈনিক আমারদেশ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক মাহবুব আলী খানশূর, মাহবুব আলম সালেহী, এস এম মাহবুবুর রহমান, ফরিদুল ইসলাম, মনিরুল হক, মুহম্মদ আব্দুল আউয়াল তারেক, মুহম্মদ আলাউদ্দিন, তরিকুল ইসলাম, মাহমুদ আহমেদ, মহিউদ্দিন স্বপন, সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।

মীর কাশেমের ফাঁসি বহাল থাকায় যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ তা কার্যকর করার দাবিতে মানববন্ধন আয়োজন করে।

received_1170025719722989মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিপুল সংখ্যক সাধারণ প্রবাসী এতে অংশ নেন।

যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান শরীফ ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ফারুকের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি এমএ রহিম, শামসুদ্দিন আহমদ মাস্টার, যুগ্ম সম্পাদক নঈমুদ্দিন রিয়াজ, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আহাদ চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক শাহ শামীম আহমদ, যুবও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক তারিফ আহমদ,

জনসংযোগ সম্পাদক রবিন পাল, শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক আসম মিসবাহ, জাসদের মুজিবুল হক মনি, যুবলীগের সেলিম খান, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির জামাল খান, সেচ্চাসেবকলীগের সায়েদ আহমদ সাদ, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সুশান্ত দাস গুপ্ত, কৃষকলীগের এমএ আলী ও জাতীয় শ্রমিক লীগের শামীম আহমদ প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, একাত্তরের গুপ্তঘাতক কুখ্যাত আলবদর বাহিনীর নেতা মীর কাসেম আলীর ফাঁসির সাজা তার প্রাপ্য ছিলো। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায় মীর কাসেম কোনো ভাবেই এড়াতে পারেন না।

এমবিএইচ