সিরিয়ার বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষায় ও সহায়তায় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ তার প্রস্তাব বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। ২১টি ত্রাণ সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত একটি গ্রুপের প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

গ্রুপে অন্যান্য সংস্থার মধ্যে সেভ দ্য চিলড্রেন ও অক্সফামও রয়েছে। তারা বলছে, ২০১১ সালে দেশটিতে যুদ্ধ শুরুর পর সিরীয়দের জন্য ২০১৪ সাল সবচেয়ে খারাপ বছর।

নরওয়ের শরণার্থী পরিষদের সেক্রেটারি জেনারেল জ্যাঁ ইগল্যান্ড বলেন, নিরাপত্তা পরিষদ তাদের প্রস্তাবসমূহ পাশে ব্যর্থ হয়েছে এটাই করুণ বাস্তবতা। ত্রাণ সংস্থার গ্রুপটিতে নরওয়ের এ শরণার্থী পরিষদও রয়েছে।

ইগল্যান্ড বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের দাবি উপেক্ষা করে সহিংসতায় জড়িত পক্ষগুলো দায়মুক্তভাবে তাদের কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে যেখানে বেসামরিক নাগরিদের রক্ষায় কোন ব্যবস্থা নেই এবং তাদের কাছে প্রয়োজনীয় ত্রাণও পৌঁছাচ্ছে না।

ত্রাণ সংস্থাগুলো বলছে, সিরিয়ায় ৫৬ লাখ শিশুর ত্রাণ সহায়তা প্রয়োজন। ২০১৩ সালের তুলনায় এ পরিমাণ ৩১ শতাংশ বেশি। সংস্থা আরো বলছে, এখনও পর্যন্ত সিরীয়দের জন্য ২০১৪ সাল সবচেয়ে খারাপ বছর। কেবলমাত্র এ বছরই অন্তত ৭৬ হাজার সিরীয় প্রাণ হারিয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, সিরীয়দের জন্যে মানবিক সহায়তা আগের চেয়ে কমেছে। ২০১৩ সালে সিরিয়ার অভ্যন্তরসহ আশেপাশের দেশের শরণার্থীদের জন্য প্রয়োজনের ৭১ শতাংশ ত্রাণ সরবরাহ করা হয়। ২০১৪ সালে তা ৫৭ শতাংশে নেমে আসে। এছাড়া জাতিসংঘের হিসেবে সিরিয়ার ৪৮ লাখ লোকের কাছে ত্রাণ পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে যে সংখ্যা ২০১৩ সালের তুলনায় ১০ লাখ বেশি।

নিরাপত্তা পরিষদ গত বছর যে তিনটি প্রস্তাব পাশ করে তাতে বেশ কয়েকটি শর্তের মধ্যে অন্যতম ছিল বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে হামলার অবসান, ত্রাণ সরবরাহ বাড়ানো এবং দামেস্কের অনুমোদন ছাড়াই সিরিয়ায় জাতিসংঘের কার্যক্রম চালানো। কিন্তু জাতিসংঘ এ প্রস্তাব বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়।

এদিকে এ রিপোর্টের প্রেক্ষিতে জাতিসংঘের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে ২০১১ সালে দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। তার নিরাপত্তা বাহিনী বলপ্রয়োগে বিরোধীদের দমন শুরু করে। বিরোধীরাও অস্ত্র হাতে নিরাপত্তা বাহিনীকে মোকাবেলা শুরু করে।

এমএ