[b]নিউ ইয়র্ক:[/b] সিরিয়া বিষয়ক জেনেভা-দুই সম্মেলনে ইরানকে আমন্ত্রণ জানানোর একদিন পর তা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন। সিরিয়ার বিদ্রোহীদের প্রচণ্ড চাপের মুখে ইরানকে আমন্ত্রণ জানানোর ২৪ ঘণ্টার মাথায় তা প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হলেন বান কি মুন।
জাতিসংঘ মহাসচিব পাশ্চাত্যের চাপ উপেক্ষা করে রোববার সিরিয়া সংকটের রাজনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে অনুষ্ঠেয় জেনেভা সম্মেলনে ইরানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কিন্তু তার এ আমন্ত্রণের পর প্রচণ্ড চাপের মুখে পড়েন মুন। এ অবস্থায় সোমবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে মুনের মুখপাত্র মার্টিন নেসিরকি বলেন,ইরান ২০১২ সালের জুন মাসে অনুষ্ঠিত জেনেভা-এক সম্মেলনের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে অস্বীকার করায় জাতিসংঘ মহাসচিব ‘গভীরভাবে মর্মাহত’ হয়েছেন। নেসিরকি আরো বলেন,ইরান আসন্ন সম্মেলনের মৌলিক গঠন কাঠামোর বিরোধিতা করায় তেহরানকে ছাড়াই জেনেভা-দুই সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বান কি মুন।
২০১২ সালের জুন মাসের সম্মেলনে সিরিয়ায় ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু করার কথা বলা হয়েছিল। এর অর্থ হচ্ছে,প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াতে হবে। মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা বিশ্ব বলছে,ইরান যদি 'জেনেভা-২' সম্মেলনে অংশ নিতে চায় তাহলে তাকে ২০১২ সালের গৃহীত সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হবে। কিন্তু ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারজিয়ে আফখাম বলেছেন,তেহরান কোনো পূর্বশর্ত মেনে এ সম্মেলনে অংশ নেবে না।
এদিকে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন,ইরানের অংশগ্রহণ ছাড়া সিরিয়া বিষয়ক আসন্ন সম্মেলন অনুষ্ঠান করা হবে ‘কপটতা’। তিনি সোমবার বলেন,“জেনেভা সম্মেলনে যেসব দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া,মেক্সিকো,দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা,জাপান,ব্রাজিল,ভারত ও ইন্দোনেশিয়াসহ আরো অনেক দেশ,সিরিয়া সংকটে যাদের বিন্দুমাত্র সংশ্লিষ্টতা নেই। এ অবস্থায় এ তালিকায় যদি ইরানের নাম না থাকে তাহলে তা হবে ভণ্ডামি।” এর আগে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন,ইরানকে ছাড়া সিরিয়া সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। সূত্র: আইআরআইবি
টাইম নিউজ/এসএমএ