পবিত্র হজ থেকে ফিরে দাড়ি রেখেছিলেন– এই তার অপরাধ! কপালে জুটল ‘জঙ্গি’ তকমা৷‌ ফতোয়া জারি হলো, চাকরি ছাড়তে হবে! যদি কাজ করতে হয়, তা হলে দাড়ি রাখা যাবে না৷‌

পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ কলকাতার একটি নামী কোম্পানির কর্মকর্তাদের এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্তে কাজ হারিয়েছেন পিকনিক গার্ডেন্সের বাসিন্দা মোহম্মদ আলি৷‌

এমনই অভিযোগ তার৷‌ শুধু দাড়ি রাখার কারণে জেনারেল ম্যানেজারের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে৷‌ প্রতিকার চেয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে চিঠি লিখেছেন তিনি৷‌ জানিয়েছেন মানবাধিকার কমিশন, কলকাতা পুলিশের নগরপাল এবং সংখ্যালঘু কমিশনেও৷‌

২০১৪ সালে অক্টোবর মাসে হজে যাওয়ার আগে সব ঠিকঠাক ছিল, জানালেন আলি৷‌ ফিরে এসেই বিপত্তি৷‌ তার ওপর মানসিক নির্যাতনের বর্ণনা করে বললেন, আমি ভাবতেই পারছি না শিক্ষিত মানুষেরা এরকম করতে পারেন!

এতদিন আমি গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলাম ওই সংস্হায়৷‌ কত দায়িত্ব সামলেছি৷‌ শুধু দাড়ি রাখার কারণে আমার সঙ্গে এরকম ব্যবহার করেছে অফিস৷‌

তার অভিযোগ, অফিসে ঢুকতেই ম্যানেজিং ডিরেক্টর অফিসে না আসার নির্দেশ দেন৷‌ কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, দাড়ি নিয়ে কাজ করা যাবে না৷‌ ‘টেররিস্ট’ হয়ে ফিরেছ! বলা হয়, বকেয়া বেতনের টাকা মিটিয়ে দেয়া হবে৷‌ এর পরেও তিনি বেশ কিছুদিন কাজ করেন৷‌

১৫ মার্চ তাকে অফিসে আসতে বারণ করা হয়৷‌ বলা হয় পদত্যাগ করতে হবে৷‌ তিনি তা করতে অস্বীকার করেন৷‌ বলেন, আমি পদত্যাগ করব না৷‌ দরকার পড়লে অপনারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা নিন৷‌ এর পরে একপ্রকার জোর করেই তাকে অফিস থেকে বের করে দেয়া হয়৷‌

বিষয়টি তিনি বালিগঞ্জ থানায় জানান৷‌ কারণ অফিসটি শরৎ বোস রোডে৷‌ থানার এক অফিসার ঘটনার তদন্ত করে দেখতে অফিসেও আসেন৷‌ কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে পুলিশ বিষয়টি নিয়ে আর এগোয়নি৷‌ এমনকি এফআইআর দায়ের করতে গেলে বালিগঞ্জ থানা তাকে ফিরিয়ে দেয়৷‌

তিনি বলেন, আমি মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছি৷‌ নিশ্চয়ই বিচার পাব৷‌ মোহম্মদ আলির পড়াশোনা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে৷‌ তার পর বহুজাতিক সংস্হা থেকে সফটঅয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করেন৷‌ বিজনেস ম্যানেজমেন্ট করেন মুম্বই থেকে৷‌

পড়াশোনা শেষে তিনি চলে যান আফ্রিকা৷‌ দেশে ফিরে ‘বিজনেস বাজিগর’ নামে একটি প্রতিযোগিতামূলক রিয়েলিটি শো-তে অংশ নেন৷‌ ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কমলনাথের হাত থেকে পুরস্কারও পান৷‌ শোয়ের পরে ওই নামী কোম্পানির তরফে মোহম্মদ অলির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়৷‌

বছরে ২৫ লাখ রুপি বেতনে কাজ যোগ দেন ২০০৮ সালে৷‌ আর ২০১৫-তে সেই কোম্পানিই তাকে শুধুমাত্র দাড়ি রাখার কারণে তাড়িয়ে দিল!
সূত্র : আজকাল

এসএইচ/এমএ