স্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য ফিলিস্তিনের হামাস তিনটি যৌক্তিক শর্ত দিয়েছে। শর্তগুলো হলো গাজার ওপর থেকে গত ৮ বছরের অবরোধ পুরোপুরি প্রত্যাহার করতে হবে, ইসরাইলি কারাগারে আটক সব ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দিতে হবে এবং গাজার ওপর আগামী ১০ বছরে কোনো হামলা চালানো যাবে না।
এসব দাবি মেনে নেয়া না হলে ৭২ ঘণ্টা পর আবার হামলা শুরু করবে হামাস। কায়রোয় হামাস নেতা মুসা আবু মারজুক এক টুইটার বার্তায় বলেছেন, যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। শুক্রবার চলতি যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রকেট হামলা শুরু হবে।
হামাস নেতা ইসমাইল রাদওয়ান আল-জাজিরাকে বলেন, "যুদ্ধবিরতি নবায়ন করা হবে না; প্রকৃত অর্জন ছাড়া এটা নবায়ন করা যায় না। যখন আমরা কথা বলি, তখন হামাসের দাবির প্রতি কোনো সাড়া দেওয়া হয়নি। এর অর্থ হলো আলোচনা থেকে কোনো প্রধান সাফল্য নেই।"
অবশ্য কায়রো আলোচনায় অংশগ্রহণকারী ইসরাইলি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, চলতি যুদ্ধবিরতি আরো তিনদিনের জন্য বাড়াতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে দু’পক্ষ। এটি কার্যকর হলে শুক্রবারের পরিবর্তে সোমবার সকালে সাময়িক যুদ্ধবিরতি শেষ হবে।
তবে, গাজায় হামাসের মুখপাত্র সামি আবু জুহরিও বলেছেন, ৭২ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর কোনো আলোচনা হয়নি। গাজায় গত মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে (বাংলাদেশ সময় বেলা ১১টা) ৭২ ঘন্টার যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছে এবং তা চলবে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত।
হামাসের প্রধান নেতা খালেদ মাশআল এর আগে জানিয়েছিলেন, তার সংগঠন সাময়িক যুদ্ধবিরতি মেনে নিলেও গাজার ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেয়ার আগ পর্যন্ত স্থায়ী যুদ্ধবিরতি মানবে না।
এর আগে মিশর সরকারের মধ্যস্থতায় বর্তমানে কায়রোতে দু’পক্ষের মধ্যে চলছে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর আলোচনা। মিশরীয় কর্মকর্তারা আজ (বৃহস্পতিবার) জানিয়েছেন, স্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে সুস্পষ্ট মতপার্থক্য রয়ে গেছে। দু’পক্ষ তাদের নিজ নিজ অবস্থানে অটল থাকলে আলোচনায় অগ্রগতি হবে না বলেও সতর্ক করে দিয়েছে কায়রো।
স্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য হামাসসহ গাজার অন্যান্য প্রতিরোধ সংগঠনকে নিরস্ত্র হওয়ার শর্ত দিয়েছে ইহুদিবাদীরা। কিন্তু হামাস বলেছে, অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত ইসরাইলের মোকাবিলায় নিরস্ত্র হওয়ার দাবি মেনে নেয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। ইহুদিবাদী ইসরাইলের পাশবিক হামলার জবাব দেয়ার জন্য তারা আরো আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হবে।
উল্লেখ্য,৮ জুলাই শুরু হওয়া ইসরাইলি হামলায় ১,৮৭৫ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক। এছাড়া, আহত হয়েছেন ৯,৬০০ জনের বেশি নাগরিক। অপরদিকে ইসরাইলের ৬৪ সেনা ও ৩ নাগরিক নিহত হয়েছে।
ঢাকা, ৭ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, টিআই, কেবি





