ফিলিস্তিনের অধিকৃত গাজা উপত্যকায় শুক্রবার ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইহুদিবাদী রাষ্ট্র ইসরাইল।
এ হামলায় পাঁচ বছর বয়সি এক শিশু এবং ২৩ বছর বয়সি এক নারীসহ অন্তত ১০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
ইসরাইলের দাবি, তারা ইসলামিক জিহাদের এক কমান্ডারকে হত্যা করতে ওই হামলা চালিয়েছে। খবর আলজাজিরার।
ইসলামিক জিহাদ গ্রুপের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে তাদের আল কুদস ব্রিগেডের কমান্ডার তায়াসির আল-জাবারি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন। গাজা সিটির ফিলিস্তিন টাওয়ারে ছিলেন তিনি।
ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ইসরাইলি ওই বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ ১০ জন নিহত এবং আরও ২৩ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার গাজা সিটিতে অবস্থিত সেই ভবনটির ৭তলা থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলি বের হতে দেখা যায়।
ফিলিস্তিনির এক সিনিয়র কর্মকর্তাকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে কয়েকদিন ধরে ইসরাইল-ফিলিস্তিনের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। এর মধ্যে এ হামলা চালানো হলো।
শুক্রবার দুপুরের পর ওই হামলা হয়। সেখানে অনেক বেসামরিক মানুষ বসবাস করেন। শুক্রবার ওই ভবনে বিমান হামলার পর গাজায় আরও বেশ কয়েকটি জায়গায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
ইসরাইলের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে একটি বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরাইল ডিফেন্স ফোর্স বর্তমানে গাজায় উপত্যকায় হামলা চালাচ্ছে। ইসরাইলের সম্মুখভাগে বিশেষ অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে গত সপ্তাহে গাজার আশপাশের শহরগুলো বন্ধ করে দেয় ইসরাইল। তাছাড়া সীমান্তে অনেক সেনা পাঠায় তারা। ফিলিস্তিনের সিনিয়র নেতাকে আটকের কারণে হামলা হতে পারে এই দোহাই দিয়ে তারা সেখানে জড়ো হয়।
ফাওজি ব্রাহমোম নামে হামাসের এক মুখপাত্র বলেছেন, এই হামলার জবাব দেওয়া হবে।
এদিকে এর আগে শুক্রবার গাজায় ইসরাইল অংশে আসেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেনি গানজ। তিনি জানান, হুমকি নিশ্চিহ্ন করতে তারা অভিযান চালাবেন।
ওই সময় তিনি জানান, ইসরাইল কোনো যুদ্ধ চায় না। কিন্তু নিজেদের নাগরিকদের রক্ষা করতে তারা চুপ করে থাকবেন না।
গাজা উপত্যকা নিয়ে গত ১৫ বছরে চারবার যুদ্ধ করেছে ইসরাইল ও হামাস।
নতুন করে বিমান হামলার কারণে সেখানে নতুন করে আবার বড় ধরনের দ্বন্দ্ব লেগে যেতে পারে বলে শঙ্কা করা হচ্ছে।
এর ১৫ মাস আগে গাজায় ইসরাইল-হামাস মাসব্যাপী যুদ্ধে ২৭০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়।
এমআর





