দখলদার ইসরাইলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তুরস্কের অবস্থান পুনরাবৃত্তি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান।
মঙ্গলবার (২৫ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে দেয়া এক আবেগময়ী বক্তৃতায় এরদোগান প্রশ্ন রাখেন, ইসরাইলের সীমান্ত কোথায়? এটা কি ১৯৪৮ সালেরর সীমান্ত, নাকি ১৯৬৭ সালের? কিংবা এছাড়া কি কোনো সীমান্ত রয়েছে?
জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোকে তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, ইসরাইলের ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল করার কোনো বৈধতা নেই। কাজেই কেবল প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘের উচিত পদক্ষেপ নেয়া বলে মন্তব্য করেন তুরস্কের এই প্রেসিডেন্ট।
মুসলিম বিশ্বের এই নেতার প্রশ্ন, যদি তাদের ভূখণ্ডের আওতায় না পড়ে, তবে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সামনে অন্যান্য অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের মতো তারা গোলান মালভূমি ও পশ্চিমতীরের অবৈধ বসতিকে কীভাবে একীভূত করতে পারে?
এসময় যুক্তরাষ্ট্রের শতাব্দির সেরা চুক্তির নেপথ্য উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এরদোগান। তিনি বলেন, তুরস্ক সবসময় ফিলিস্তিনের নিপীড়িত মানুষের পাশে থাকবে এবং অতীতেও ছিল।
নির্বাচনের আগে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু অধিকৃত পশ্চিমতীরের অবৈধ ইহুদি বসতিকে ইসরাইলের সঙ্গে একীভূত করার কথা বলেছেন।
এদিকে, পরমাণু শক্তির উৎপাদন এবং ব্যবহারের ব্যাপারে দ্বৈত নীতি অনুসরণ করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তীব্র সমালোচনা করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান।
তিনি বলেছেন, হয় বিশ্বের সব দেশ পরমাণু শক্তি ব্যবহারের অধিকারী হবে আর তা না হলে পরমাণু শক্তির ব্যবহারের বিষয়টি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করতে হবে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪তম বার্ষিক অধিবেশনে দেয়া বক্তৃতায় গতকাল (মঙ্গলবার) এরদোগান এই বৈষম্যের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “যেসব দেশের কাছে পরমাণু শক্তি আছে এবং যেসব দেশ এই শক্তির অধিকারী নয় তাদের ভেতরে যে বৈষম্য বিরাজ করছে তাতে বৈশ্বিক ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনা বিবেচনা করে পরমাণু শক্তির ব্যবহার হয় পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে হবে আর তা না হলে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিতে হবে।”
এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, পরমাণু অস্ত্রধারী দেশগুলো আংকারাকে পরমাণু শক্তির অধিকারী হওয়ার পথে বাধা দিতে পারে না। রাশিয়া থেকে এস-ফোর হান্ড্রেড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনা নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে মারাত্মক টানাপড়েনের মধ্যে এরদোগান একথা বলেছিলেন।
তিনি সে সময় বলেছিলেন, “বেশ কয়েকটি দেশের কাছে পরমাণু ওয়ারহেডবাহী ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে এবং এরকম দেশের সংখ্যা একটি দুটি নয়। অথচ তারাই বলে আমরা পরমাণু অস্ত্র বানাতে পারব না। এটিা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।“
গতকাল জাতিসংঘে দেয়া বক্তৃতায় এরদোগান কাশ্মীর ইস্যুতে সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন। এ বিষয়ে যথাযথ মনোযোগ দিতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমালোচনা করেন।
এমবি





