একজন শিশু হিসাবে মাহমৌদ সালা আল-মোহাম্মদ ছিল খুবই চটপটে এবং মিশুক। সে প্রতিবেশী শিশুদের সঙ্গে খেলতো, মেয়েদের সঙ্গে মজা করতো এবং জীবনে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে আগ্রহী ছিল। কিন্তু লেবাননের অন্যতম একটি অস্থিতিশীল শরণার্থী শিবিরে বসবাসরত একজন ফিলিস্তিনি শরণার্থী হিসেবে অবশেষে সে উপলব্ধি করতে পারে, সামনে তার অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ।
লেবাননের উপকূলীয় নগরী সিডনে অবস্থিত এক বর্গ কিলোমিটারের একটু বেশি আয়তনের আইন এল-হেলওহে শরণার্থী শিবিরটি ঠাসাঠাসি করে থাকা এক লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনি শরণার্থীর বাসস্থান। লেবাননি সেনা তল্লাশি চৌকিগুলোতে শরণার্থীশিবিরে যাতায়াতকারী প্রত্যেককে তল্লাশি করার মাধ্যমেই যেন জানিয়ে দেয়া হয় তাদের প্রতি দেশটির জনগণের অবিশ্বাস-অনাস্থা। এরই মধ্যে লেবাননে ৭০টির বেশি পেশা থেকে নিষিদ্ধ ফিলিস্তিনি শরণার্থীরা কাজ খুঁজে পেতে প্রাণপণ চেষ্টা চালায়। কিন্তু এখন বেসরকারি সংস্থাগুলোর সাহায্য হ্রাস এবং দেশটিতে সিরীয় শরণার্থীদের বিরতিহীন আগমনের মধ্যে শিবিরের অনেক যুবক সুন্দর ভবিষ্যতের আশা ছেড়ে দিয়েছে। অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে তারা মরিয়া হয়ে উঠছে। মাহমৌদ ছিল তাদেরই একজন।
কাজ পেতে ব্যর্থ হওয়া ৩১ বয়সী এই যুবক লেবানন ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। লেবানন থেকে ইতালি যাওয়ার কষ্ট লাঘব করতে মানব পাচারকারীদের অর্থ দেওয়ার প্রয়োজনে তিনি এবং আইন এল-হেলওহের তার সাত বন্ধু মিলে টেনেটুনে কয়েক হাজার ডলার জোগাড় করেন। পাচারকারীরা তাদেরকে নৌকা করে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেয়ার ব্যবস্থা করে। কিন্তু ইতালির সিসিলি উপকূলে তাদের নৌকা ডুবে যায়। মাহমৌদের বন্ধুরা ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষা পান এবং তারা এখন জার্মানিতে আছেন। কিন্তু মাহমৌদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। তার মতো আরো অনেকেই এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
মাহমৌদের এই মরিয়া প্রচেষ্টা সম্পর্কে তার বোন মাহা বলেন, ‘চলে যেতে সে খুব খুশি ছিল। অবশ্যই আমরা তার জন্য শংকিত, কিন্তু আমরা খুশি— অপেক্ষাকৃত ভালো জীবনের আশায় সে যাচ্ছিল। যদি সে ফেরত আসে তাহলে তার একমাত্র বিকল্প হবে খুনী বা ডাকাত হওয়া, তাই এর চেয়ে যেকোনো কিছুই ভাল। সূত্র: আল জাজিরা।
জেআই





