হামলার আগে তিউনিসিয়ায় পরিবারকে সবচেয়ে বেশি টাকা দিয়েছিল বুলেল। এর আগে সে কখনোই এত অর্থ একসঙ্গে পাঠায়নি। শনিবার বুলেলের ভাইয়ের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রায় ৮৪ হাজার পাউন্ড পাঠিয়েছিল তিউনিসিয়ায় পরিবারের কাছে। ধারণা করা হয় ফ্রান্সে হামলাকারী ল্যউইজ বুলেল তার কাছে থাকা প্রায় সব অর্থ পরিবারের কাছে পাঠিয়ে দেয়। তার কারণ এই রকম হতে পারে সে মরবে এবং মারবে। ঘটনা ঘটানোর পর সে আর বাচার আশা রাখবে না।
বৃহস্পতিবার রাতে ফ্রান্সের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আতশবাজি উৎসবে ৩১ বছর বয়সি বুলেল একটি ট্রাক নিয়ে হামলা চালান। হামলার পর পুলিশ ট্রাকে পাওয়া কাগজপত্র থেকে তার পরিচয় শনাক্ত করে। হামলায় অন্ততপক্ষে ৮৪ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার এ হামলার ঘটনার দায় স্বীকার করেছে চরমপন্থি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট। হামলাকারীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে পুলিশ শনিবার পাঁচজনকে আটক করেছে।
ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বারনার্ড ক্যাজিনিউভ্যু জানিয়েছেন, হামলাকারী বুলেল অল্প সময়ের ব্যবধানে চরমপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।তদন্তকারীরা বুলেলের ফোন কলের রেকর্ড পরীক্ষা করে দেখেছেন, তার সঙ্গে চরমপন্থিদের যোগাযোগ ছিল।
বুলেলের স্বজনরা জানিয়েছেন, হামলার এক দিন আগে গ্রামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে সে তিউনিসিয়ায় নিজের গ্রাম এমসাকেনে টাকা পাঠিয়েছিল।
বুলেলের ভাই জাবের বলেন, অনেক দিন ধরেই তার ভাইয়ের সঙ্গে কোনো দেখা-সাক্ষাৎ হয়নি। সে যে অর্থ পাঠিয়েছে, তা ছিল রীতিমতো বিস্ময়কর।
তিনি বলেন, ‘বুলেল গত কয়েক দিনে পরিবারের সদস্যদের কাছে ২ লাখ ৪০ হাজার তিউনিসীয় দিনার (৮৪ হাজার পাউন্ড) পাঠিয়েছে। বিদেশে যেসব তিউনিসীয় কাজ করে, তাদের মতো সে মাঝে মাঝে অল্প কিছু অর্থ পাঠাত। কিন্তু এরপরেই সে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাঠাল। সে অবৈধ পথে টাকা পাঠাত। যেসব পরিচিত লোক আমাদের গ্রামে ফিরে আসত, সে তাদের হাতে পরিবারের সদস্যদের কাছে অর্থ পাঠাত।’
তবে বুলেলের বোন চাইমা আরেফা বলেন, ‘ আমার ভাই জঙ্গি নয়। আমরা মুসলমান। কিন্তু আমার ভাই ধার্মিক ছিল না। সে মদ পান করত, ধূমপান করত এবং বেশ্যালয়ে যেত।’
জেড





