মার্কিন ইতিহাসের সর্বোচ্চ সামরিক শক্তিধর দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে গড়ে তুলতে বড় আকারের ‘সামরিকবান্ধব’ বাজেট পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার মেরিল্যান্ডে কনজারভেটিভ পলিটিক্যাল অ্যাকশন কনফারেন্সে (সিপিএসি) এমন পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি।
রিপাবলিকান দলের এ সমাবেশের মাধ্যমে ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির পক্ষেও সাফাই গেয়েছেন। আগামী মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশে টেলিভিশনে ভাষণ দেবেন ট্রাম্প। ওই বক্তৃতার আগেই সামরিক খাতকে শক্তিশালী করা এবং কর সংস্কারের বিষয়ে নিজের চিন্তা-ভাবনা রিপাবলিকান সমর্থকদের সামনে তুলে ধরেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। খবর বিবিসি, এএফপি ও দ্য গার্ডিয়ানের।
সিএপিসি একটি বার্ষিক রাজনৈতিক সম্মেলন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচিত রাজনৈতিক প্রতিনিধি ও রক্ষণশীল কর্মীরা অংশগ্রহণ করে থাকেন। আমেরিকান কনজারভেটিভ ইউনিয়নের (এসিইউ) উদ্যোগে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, আক্রমণাত্মক এবং আত্মরক্ষা- এ দুই পর্যায়েই সেনাবাহিনীর সামর্থ্য বাড়াতে বাজেট বৃদ্ধির জন্য তিনি কংগ্রেসে আহ্বান জানাবেন, যা তার দেশের সামরিক খাতকে আগের চেয়ে বড়, দক্ষ ও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।
তিনি আরও বলেন, আশা করছি, এ ক্ষমতা আমাদের প্রয়োগ করতে হবে না, কিন্তু কেউ আমাদের সঙ্গে বিশৃংখলা করতে আসবে না। এটা হবে আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আকারের সামরিক শক্তি। এ সময় ট্রাম্পকে উচ্চ প্রশংসা করে উল্লাস প্রকাশ করেন সমর্থকরা। ট্রাম্প আরও বলেন, আমরা আমেরিকান এবং আমাদের মধ্যেই জাতির ভবিষ্যৎ। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র শন স্পাইসার জানান, এ বছরের জন্য ট্রাম্পের প্রস্তাবিত বাজেট হবে খুবই স্বচ্ছ; কীভাবে সামরিক তহবিল থেকে অতিরিক্ত ব্যয় হবে তারও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়া থাকবে বাজেটে।
বার্ষিক জনসভায় ট্রাম্প বলেন, তিনি জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট নিধন, সন্ত্রাসীদের বিতাড়িত, স্বাস্থ্যনীতিকে ঢেলে সাজানো, সংখ্যালঘুদের কাজে ফেরানো এবং সমাজকল্যাণমূলক কাজ বাস্তবায়ন করবেন। একই সঙ্গে অসৎ মিডিয়ার প্রতি কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমরা তাদের বিরুদ্ধে কিছু করতে যাচ্ছি। যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর মধ্যে সীমান্তপ্রাচীর তৈরির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ‘সব সময় প্রথমে’ রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘শিগগির, নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই বিশাল, বিশাল দেয়াল নির্মাণ করা হবে।’ ভাষণে ‘বদ লোকদের’ যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেয়ারও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এ সময় শ্রোতারা ‘ইউএসএ, ইউএসএ, ইউএসএ!’ স্লোগান তুলে ট্রাম্পকে সমর্থন জানান।
দেয়াল নির্মাণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে মেক্সিকোর হুশিয়ারি : সীমান্ত দেয়াল নির্মাণের লক্ষ্যে দেশটির আমদানির ওপর একতরফা শুল্ক আরোপের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে মেক্সিকো।
বলা হয়েছে, এমনটা করা হলে এর পাল্টা জবাব দেয়া হতে পারে। শুক্রবার একটি রেডিওকে দেয়া সাক্ষাৎকারে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী লুইস ভিদাগারাভ জানান, এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেক্সিকোতে রফতানি করা সুনির্দিষ্ট কিছু পণ্যের ওপরও মেক্সিকান সরকার শুল্ক আরোপ করতে পারে। খুব শিগগির দেয়াল নির্মাণের কাজ শুরু হবে- ট্রাম্পের এমন অঙ্গীকারের জবাব দিয়েছে মেক্সিকো।
যুক্তরাষ্ট্র সরকার জানায়, আগামী মাস থেকেই তারা প্রস্তাবিত নকশা গ্রহণের কাজ শুরু করবে। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বিভাগ ও সীমান্ত রক্ষা সংস্থা জানায়, তারা আগামী ৬ মার্চের মধ্যে দেয়াল নির্মাণের নকশা জমা দেয়ার আহ্বান জানাবে।
মাহমুদ





