দখলদার ইসরাইলের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ১৮ জনের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করেছে ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস। তেলআবিবের আগ্রাসনে তিন হামাস কমান্ডার নিহত হওয়ার একদিন পর এই মৃত্যুদন্ডাদেশ কার্যকরের ঘটনা ঘটলো।

শুক্রবার সকালে গাজা শহরের পুলিশ হেডকোয়ার্টারে এই মৃত্যুদন্ডাদেশ কার্যকর করা হয়েছে বলে ফিলিস্তিনের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, ইসরাইলের পক্ষে গোয়েন্দাবৃত্তি করার দায়ে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিতদের বিরুদ্ধে আগেই গাজার বিভিন্ন আদালত রায় দিয়েছিল। যথাযথ আইনী প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই তাদের দন্ডাদেশ কার্যকর করা হলো বলেও ফিলিস্তিনি নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানান।

এ ঘটনার একদিন আগে বৃহস্পতিবারও ইসরাইলকে সহায়তার দায়ে তিনজনকে মৃত্যুদন্ড দেয় ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস।

আর সবশেষ একসাথে ১৮ জনের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার ঘটনা ঘটলো এমন এক সময় যার একদিন আগে হামাসের তিন শীর্ষ সামরিক কমান্ডার নিহত হন। অবরুদ্ধ গাজার দক্ষিণ অঞ্চলে একটি বাসায় ইসরাইলের বিমান হামলায় এদের মৃত্যু হয়। নিহত তিনজন হলেন হামাসের সামরিক শাখা ইজ্জদিন আল কাসসাম ব্রিগেডের শীর্ষ কমান্ডার।

এদিকে, তিন সামরিক কমান্ডার নিহতের ঘটনায় ফিলিস্তিনি জনগণ কিংবা প্রতিরোধ আন্দোলন কারও ওপরই নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছে হামাস। প্রতিরোধ আন্দোলন এ ঘটনায় মোটেই দুর্বল হবে না এবং এর জন্য ইসরাইলকে চরম মূল্য দিতে হবে বলেও তেলআবিবকে হুসিয়ার করে দিয়েছে হামাস।

অপরদিকে, ইসরাইলের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হামাসের সামরিক কর্মকান্ডের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নিহত ওই তিন কমান্ডারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

ইসরাইলি বিমান হামলায় গত ২৪ ঘন্টায় শিশুসহ অন্তত ৩০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন যাদের প্রায় সবাই বেসামরিক নাগরিক।

গত ৮ জুলাই থেকে গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনে এ পর্যন্ত ২০৯০'র বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১০ হাজার ৩'শর বেশি।

জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ইসরাইলের এই গণহত্যাকে ন্যাক্কারজনক আখ্যায়িত করে অবিলম্বে এটা বন্ধে তেলআবিবের প্রতি বার বার আহবান জানিয়ে আসছে। (সূত্র: প্রেসটিভি)

ঢাকা, ২২ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, কেবি